নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্যে ফের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের দাবি তুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, আগেরবারের সংশোধন প্রক্রিয়া মসৃণভাবে হয়নি, তাই বাংলায় নতুন করে SIR প্রয়োজন।
রাজ্যসভার সাংসদ শমীকের দাবি, তৃণমূল সরকারের আমলে এই প্রক্রিয়ায় ব্যাপক বাধা দেওয়া হয়েছিল। নথি ছিনিয়ে নিয়ে পুড়িয়ে ফেলা, নির্বাচনী আধিকারিকদের উপর হামলা, অফিসে আগুন লাগানোর মতো ঘটনা ঘটেছিল। এমনকি ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং বিজেপির বুথ লেভেল এজেন্টদের উপরও হামলা চালানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
‘ভোট চুরি’র অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পাশে দাঁড়ান শমীক। ফের জ্ঞানেশকে পুরস্কৃত করা উচিত জানিয়ে তিনি বলেন, “ভোট চুরির অভিযোগ না তুলে স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে পুরস্কৃত করা উচিত। পশ্চিমবঙ্গে আরেকবার SIR দরকার, কারণ আগের প্রক্রিয়া ঠিকমতো হয়নি।”
এদিন সিজেপির আন্দোলন প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন তিনি। গণতন্ত্রে আন্দোলনের অধিকার সকলের আছে বলে মন্তব্য করলেও, এই আন্দোলনের পিছনে কোন রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, ভোটারদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত এবং রাজনৈতিকভাবে অপ্রাসঙ্গিক শক্তিগুলিই এই আন্দোলনকে চালাচ্ছে, এর পিছনে জনসমর্থন নেই। তাঁর কথায়, “মবোক্র্যাসি কখনও ডেমোক্র্যাসির বিকল্প হতে পারে না।”
কলকাতায় দুর্গাপুজো মণ্ডপের কাছে সিপিএমের বইয়ের স্টলে হামলার ঘটনায় বিজেপির যোগ নেই বলেও দাবি করেন শমীক। তিনি বলেন, “এটা আমাদের পথ নয়। এই মাটি বহুত্ববাদের ঐতিহ্য বহন করে।” এই প্রসঙ্গে রামকৃষ্ণ পরমহংসের বাণী ‘যত মত, তত পথ’ উল্লেখ করেন তিনি।
নতুন সরকারের আমলে দুর্গাপুজোর পরিস্থিতি বদলেছে বলেও দাবি করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, আগে অনেক জায়গায় প্রতিমা বিসর্জনের সময়ও পুলিশ-প্রশাসনের অনুমতি নিতে হত। এবারের পুজো মণ্ডপগুলির প্রশংসা করে তিনি বলেন, অনেক মণ্ডপই সামাজিক বার্তা তুলে ধরেছে, যেমন বাগবাজারের একটি মণ্ডপ বাণিজ্যিক থিয়েটারের বেহাল দশার কথা তুলে ধরেছে।