ওঙ্কার ডেস্ক: সম্প্রতি বেশ কিছু মাস যাবৎ কংগ্রেসের সঙ্গে তিরুঅনন্তপুরমের সংসদ শশী থারুরের দুরত্ব চোখে পরেছিল দেশের রাজনৈতিক মহলের। কংগ্রেসের একাধিক গুরত্বপুর্ণ সভায় তাঁর অনুপুস্থিতি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর সভায় তাঁর উপস্থিতি সবই দলের অভ্যন্তরীণ বচসার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে কেরলের আসন্ন বিধানসভার নির্বাচনের আগে থারুর হয়তো বিজেপিতে যোগদান করতে পারেন। সেই জল্পনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাগড়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এরপরই ফের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেছে চর্চা।
বুধবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন সাংসদ শশী থারুর। সংসদ ভবনের খাড়গের দফতরে প্রায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই বৈঠক চলে। সাম্প্রতিক সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য, সংগঠনে ভূমিকা এবং কেরল রাজনীতিকে ঘিরে নানা আলোচনা ও গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বৈঠকের পর থারুর স্পষ্ট ভাষায় জানান, আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক হয়েছে এবং নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর কোনও দূরত্ব নেই। তিনি বলেন, “সব ঠিক আছে, আমরা একই পৃষ্ঠায় আছি।” এর আগে একাধিক বার কংগ্রেসের অভ্যন্তরে পরিবারবাদ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিলেন থারুর।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দলের বিভিন্ন বৈঠকে তাঁর অনুপস্থিতি এবং কেরল বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। দলীয় মহলের একাংশের ধারণা ছিল, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মতভেদ তৈরি হয়েছে বা তাঁকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনা সেই জল্পনাকে প্রশমিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে সংগঠন শক্তিশালী করা, কেরলে দলের কৌশল এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দলীয় সূত্রের মতে, থারুর তাঁর উদ্বেগ ও মতামত খোলাখুলি তুলে ধরেন এবং নেতৃত্বও তাঁকে আশ্বস্ত করে যে দলের কাজে তাঁর অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেরলের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে কংগ্রেসের লড়াই আরও শক্ত করতে শশী থারুরের মতো সর্বভারতীয় ভাবমূর্তিসম্পন্ন নেতাকে সামনে রাখা দলের পক্ষে লাভজনক হতে পারে। তাই এই বৈঠক কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং সংগঠনের ভিত মজবুত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
