শিখ যাত্রীদের আসন্ন সফরকে ঘিরে পাকিস্তানের অ্যান্টি-ইন্ডিয়া পরিকল্পনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আইএএনএস –এর উদ্ধৃতিতে ‘খালসা ভক্স’ দাবি করেছে, ইসলামাবাদের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা শিখ যাত্রীদের সফরের সময় অ্যান্টি-ইন্ডিয়া প্রচার চালানোর ছক কষছে।
সূত্রের খবর, ২ অগস্ট লাহৌরের গুলবার্গ হোটেলে এক বৈঠকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থা, ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড (ETPB) এবং পাকিস্তান শিখ গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটি (PSGPC)–র প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে গুরুদ্বারার ভেতরে অ্যান্টি-ইন্ডিয়া ব্যানার ও স্লোগান দেওয়ার প্রস্তাব দেয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। তবে ETPB এবং PSGPC তাতে কড়া আপত্তি জানায়। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ETPB–এর এক অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি সতর্ক করেন যে ধর্মীয় যাত্রাকে রাজনৈতিক রঙ দিলে ভারত সফর স্থগিত করে দিতে পারে, যা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বোর্ডগুলির জন্য বড় ধাক্কা হবে।
ইতিমধ্যেই কর্তারপুর করিডর বন্ধ থাকায় মে মাস থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৭ কোটি পাকিস্তানি রুপি লোকসান হচ্ছে, সঙ্গে বাতিল হয়েছে দুটি বার্ষিক শিখ তীর্থযাত্রা। আপত্তি সত্ত্বেও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি যাত্রীদের আবাসনের আশপাশে সেমিনার ও বৈঠকের মাধ্যমে ভুয়ো বার্তা ছড়ানোর পরিকল্পনা করছে। অভিযোগ, এর মধ্যে রয়েছে ভারতে শিখদের উপর বৈষম্যের অভিযোগ, গুরুদ্বারাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি ইত্যাদি। পাশাপাশি এই প্রচার ছড়াতে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মও ব্যবহার করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ঐতিহাসিক ক্ষোভ ও ভুয়ো প্রচারকে কাজে লাগিয়ে শিখ প্রবাসী সম্প্রদায়ের একটি অংশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তবে ধর্মীয় ভ্রমণকে রাজনৈতিক প্রচারের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও ধর্মীয় সৌহার্দ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
