নিজস্ব সংবাদদাতা,ফুলবাড়ি:ভুটানের ট্রাককে আর চলতে দেওয়া যাবে না ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে—এই দাবিকে সামনে রেখে সোমবার সকাল থেকেই উত্তাল হয়ে উঠল শিলিগুড়ির ফুলবাড়ি ২ নম্বর বর্ডার এলাকা। ভুটানের পাথরবোঝাই ট্রাক রুখে দিয়ে রীতিমতো রাস্তায় বসে পড়েন শতাধিক ভারতীয় ট্রাকচালক ও মালিক। পাশাপাশি আন্দোলনে শামিল হন তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও।
একযোগে ফুলবাড়ি ট্রাক ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সি অ্যান্ড এফ অ্যাসোসিয়েশন—এই চারটি সংগঠন সীমান্ত অবরোধে নেতৃত্ব দেয়। দাবি স্পষ্ট—ভুটানের ট্রাকগুলি সীমান্তে সামগ্রী নামিয়ে দিক, এরপর সেই পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে যাবে ভারতীয় ট্রাকই।
দীর্ঘ ন’দিন ধরে চলছে অনশন কর্মসূচি। এদিন সকাল থেকেই ভারতীয় ট্রাকচালকরা সীমান্তে ভুটানের ট্রাকগুলিকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ক্রমশ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার আন্দোলন তুলে নেওয়ার আবেদন জানানো হলেও, অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান বিক্ষোভকারীরা। শেষে পুলিশের তরফে একাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় এনজেপি থানায়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত চার মাস ধরে ভুটান থেকে পাথর, বোল্ডার বোঝাই ট্রাক ওভারলোড করে সরাসরি বাংলাদেশে ঢুকছে। যার ফলে ভারতের গাড়িগুলি কাজ পাচ্ছে না, চরমআর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন বহু পরিবার। প্রায় ৬০-৬৫ হাজার মানুষ এই সীমান্ত ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। প্রশাসন, দপ্তর ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বহু বার জানিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ।
দীর্ঘ বিক্ষোভের জেরে সীমান্তে আটকে পড়ে একাধিক ট্রাক। দেখা যায় উত্তেজনা। পরে পুলিশের সহায়তায় ধীরে ধীরে ভুটানের ট্রাকগুলি বর্ডারের দিকে রওনা হয়। তবে পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নয়। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি না মানা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
প্রশাসনের তরফে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় মহলের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে রফতানি বাণিজ্যে বড় রকমের ধাক্কা লাগতে পারে।
