নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র দোহাই দিয়ে বৈধ ভোটারের নাম বাদের চক্রান্ত করা হচ্ছে। তা বন্ধ করতে হবে। এই দাবিতে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। এবার এই ইস্যুতেই বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ-২-দের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকের ডাক দিলেন ‘তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকে দলের নেতা-কর্মীদেরও যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে খবর আগামী ২২ জানুয়ারি ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন দলের সেকেন্ড ইন ক্যামন্ড। তৃণমূল সূত্রের খবর, এই বৈঠকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। বিএলএ-২-দের পাশাপাশি দলের নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক এবং কর্মীদেরও এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করতে চান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এসআইআর-এর নামে কোথায়, কীভাবে নাম কাটার চেষ্টা হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, সেই রূপরেখাই তুলে ধরা হবে এই বৈঠকে। জোড়া ফুল শিবিরের দাবি, ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষের কাছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নোটিস ধরিয়ে অন্য পথে ভোটার তালিকা ছাঁটাইয়ের চেষ্টা চলছে। মামলাও গড়িয়েছিল শীর্ষ আদালতে। সংশ্লিষ্ট মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, গণতান্ত্রিক পথে বাংলার মসনদ দখল করতে না পেরে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ঘুরপথে রাজ্য দখলের চেষ্টা করছে বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই তাড়াহুড়ো করে এসআইআর-এর নাম করে ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে তৃণমূলের দাবি।
গত মঙ্গলবার বাঁকুড়ার খাতড়া থেকে একটি রহস্যজনক গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় কয়েক হাজার এসআইআর-এর ফর্ম-৭। অভিযোগ, প্রায় সব ফর্মই আগেই পূরণ করা ছিল। তৃণমূলের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ওই ফর্মগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হন মুখ্যমন্ত্রীও।তৃণমূলের অভিযোগ,, বাঁকুড়া,পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ও তমলুক, মালদহের ইংরেজবাজার, হুগলির চুঁচুড়া ও চন্দননগর, উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর থেকে কলকাতার জোড়াসাঁকো সর্বত্র একই কায়দায় নাম কাটার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের টার্গেট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। তৃণমূলের আর দাবি, শীর্ষ আদালতের এই রায়ে কার্যত বিজেপি ব্যাক ফুটে চলে গেল বলে মনে করছে অনেকে।
উল্লেখ্য, এর আগেও বিএল এ- ২ সহ দলের নেতা কর্মীদের সঙ্গে এস আই আর নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এস আই আর নিয়ে সজাগ থাকতে দলকে নির্দেশ দিয়ে ছিলেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে অভিনেতা দেব,কবি জয় গোস্বামী, নেতাজির বংশধর চন্দ্র বসুকে শুনানিতে ডাক পড়ে। এই তলবকে কমিশন এস আই আর এর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে দাবি করছে কমিশন । কমিশনের যুক্তিতে সায় দিয়েছে গেরুয়া শিবির। যদিও এর পিছনে ষড়যন্ত্র দেখছে তৃণমূল। জোড়াফুল শিবিরের অভিযোগ,কমিশনকে ব্যবহার করে ঘুর পথে বাংলা দখল করতে চাইছে বিজেপি । এই পেক্ষাপটে ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিএলএ ২ দের কি বার্তা দেন সেদিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
