ওঙ্কার ডেস্ক: চলতি মাসের ৪ তারিখ থেকে বাংলায় শুরু হয়ে গেছে ভোটার তালিকার নিবির সংশোধন প্রক্রিয়া। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বুথ লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করা শুরু করেছেন। এসআইআর শুরু হওয়ার তিন দিনেই রেকর্ড করেছে বাংলা। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বিএলও-রা শুরুর তিন দিনের মধ্যেই ২ কোটির বেশি ফর্ম বিলি করেছেন।
প্রতিটি ব্লক ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নিযুক্ত বুথ লেভেল অফিসাররা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের হাতে এই ফর্ম তুলে দিচ্ছেন। সূত্রের খবর, রাজ্যে মোট প্রায় সাড়ে সাত কোটি ভোটারের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্যে এই অভিযানে প্রায় ৮০ হাজারেরও বেশি বুথ লেভেল অফিসারদের মাঠে নামানো হয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব, প্রতিটি ভোটার পরিবারকে অন্তত দু’কপি ফর্ম দেওয়া এক কপি ভোটারের কাছে থাকবে, অন্য কপি সংশ্লিষ্ট ব্লকে জমা দেওয়া হবে। রাজ্য নির্বাচন দফতর জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হল ভোটার তালিকা থেকে অপ্রাসঙ্গিক নাম বাদ দেওয়া, মৃত ভোটার বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের তথ্য সংশোধন করা এবং নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা। এছাড়া, যাঁদের নাম বা ঠিকানায় কোনও ভুল আছে, তাঁরাও এই ফর্মের মাধ্যমে তা সংশোধন করতে পারবেন।
প্রথম দিনেই রাজ্যের সর্বত্র মিলিয়ে প্রায় ৭০ লক্ষেরও বেশি ফর্ম বিতরণ হয়। এই সংখ্যাটি দ্বিতীয় দিনেই এক কোটি ছাড়িয়ে যায়, এবং বর্তমানে দুই কোটির গণ্ডিও পেরিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, এবার অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমেই ভোটার তালিকা হালনাগাদের সুযোগ মিলবে। এর ফলে সময় ও শ্রম দুই-ই বাঁচবে এবং স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
রাজ্যের একাধিক জেলায় এই কর্মসূচিকে ঘিরে মানুষের সাড়া পড়েছে। অনেক জায়গায় ভোটাররা নিজেরাই বিএলও দের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফর্ম সংগ্রহ করছেন। জেলা প্রশাসনগুলিও প্রতিদিন অগ্রগতি রিপোর্ট পাঠাচ্ছে রাজ্য সদর দফতরে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই ফর্ম বিতরণ ও সংগ্রহের কাজ শেষ করা হবে, যাতে আগামী নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা পুরোপুরি হালনাগাদ থাকে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এবার ভোটার তালিকায় ভুল বা বাদপড়া নাম নিয়ে যাতে কোনও বিতর্ক না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখছে কমিশন। সংশোধন পর্ব শেষে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হবে এবং নাগরিকদের আপত্তি বা পরামর্শ জানানোর সুযোগও থাকবে। প্রশাসনের বক্তব্য, রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
