ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ১১ ডিসেম্বর। এই পর্বে ফর্ম পূরণ করেননি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের আবুল কালাম। আর ফর্ম না ভরায় প্রতিবেশীরা মন্তব্য করতে থাকেন, তাঁকে ডিটেনশন ক্যাম্প কিংবা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে। অভিযোগ, সেই আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন আবুল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের বালুভোরট গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন ৫২ বছর বয়সি আবুল কালাম। শনিবার ভোরে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তে শোরগোল শুরু হয়ে যায় গ্রামে। স্থানীয়রা জানান, বহু বছর আবুল জয়পুরে ছিলেন। সেখানে হোটেলে কাজ করতেন তিনি। বিয়েও করেননি ওই প্রৌঢ়। বছর খানেক আগে গ্রামে ফিরে আসেন। তাঁর কাছে ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড না থাকায় এসআইআর ফর্ম পূরণ করতে পারেননি। এমনকি ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আবুলের বাবা মায়ের নাম তালিকায় ছিল না। আর এই বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি। স্থানীয়দের অনেকে আবুলকে বলতে থাকেন, তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। নতুবা, ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে। অনুমান, সে কারণেই আত্মঘাতী হয়েছেন ওই পৌঢ়। শনিবার সকালে আবুলের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, এর আগে শুক্রবার রাতেই মালদহে বরকত শেখ নামে এক তৃণমূল কর্মীর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, এসআইআর আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বরকত। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে তাঁর বাবার নাম ভুল ছিল। তাই বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন তিনি।
