ওঙ্কার ডেস্ক: ভোটার তালিকায় ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’-এর সময় ১৩ কোটিরও বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে। এই আবহে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ার তিনটি ধাপে মোট ৯৫.৪০ কোটি ভোটারের তথ্য যাচাই করা হয়েছিল। এই সংশোধনী প্রক্রিয়ায় ১৩.৩৯ কোটি ভোটারকে ‘এএসডিডি’ এবং অন্যান্য শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
এএসডিডি বলতে বোঝায় অনুপস্থিত (Absent), স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত (Permanently Shifted), মৃত (Dead) বা দ্বৈত (Duplicate) হিসেবে চিহ্নিত ভোটারদের। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী: অনুপস্থিত / খোঁজ মেলেনি এমন ভোটার: ৩.০১ কোটি, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত: ৬.৩০ কোটি ভোটার, মৃত: ২.৮০ কোটি, দ্বৈত (একই নাম একাধিকবার রয়েছে তালিকায়): ১.০২ কোটি ব্যক্তির। এ ছাড়া অন্যান্য শ্রেণিভুক্ত: ০.২৬ কোটি ভোটার। মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে: ১৩.৩৯ কোটিতে।
নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজ্যের ১০ লক্ষেরও বেশি ‘বুথ লেভেল অফিসার’-এর মাধ্যমে ব্যাপক যাচাই-বাছাইয়ের পরেই এই এএসডিডি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ২২ লক্ষেরও বেশি ‘বুথ লেভেল এজেন্ট’-এর কাছে বুথ-ভিত্তিক এই এএসডিডি তালিকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের আধিকারিক জানান, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ভোটারদের দাবি ও আপত্তি জানানোর জন্য এক মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে যোগ্য ভোটাররা তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পেরেছেন। অযোগ্য ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপত্তিও জানাতে পেরেছেন।
নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যদি কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম ভুলবশত বাদ পড়ে গিয়ে থাকে, তবে সেই ভোটার ‘দাবি ও আপত্তি’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে ‘ফর্ম ৬’-এর সাহায্যে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।