রাজ্যে SIR ঘোষণার পর চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এমন কি এই আতঙ্কে নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে আত্মহত্যার ঘটনাও সামনে এসেছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের মধ্য দিয়ে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার যে ভীতির আবহ তৈরি হয়েছে তাতে ২৬শে-র নির্বাচনের আগ রাজ্যের সামাজিক ও রাজনৈতি পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই। SIR নিয়ে কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে চলেছে রাজ্যে, সেই সম্পর্কে ওঙ্কার বাংলাকে জানালেন বরিষ্ঠ সিমিএম নেতা ও সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।
সাক্ষাৎকার : বিশ্বজিৎ হালদার
প্রশ্ন: SIR নিয়ে বাংলার মুসলিম ও মতুয়া সমাজ আতঙ্কিত ।
বিকাশ ভট্টাচার্য : শুধু মুসলিম বা মতুয়া সমাজ নয়, সাধারণ মানুষও আতঙ্কিত। SIR-এর জন্য যে ১২টা প্রমাণপত্র চাওয়া হয়েছে, আমি দাবি করছি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা আগে সেই প্রমাণ পত্র দেখাক। মোদীর মন্ত্রিসভার সব সদস্য কি এইসব প্রণাম পত্র দেখাতে পারবেন ? যে মানুষগুলো ফুটপাতে থাকেন। ঝড় বৃষ্টিতে বাসস্থান বদল করেন তাঁরা প্রমাণ কোথায় পাবেন ? যে দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ পত্র দেখাতে পারে না, সেই দেশের মানুষকে নাগরিকত্বের প্রমাণ পত্র চান কী ভাবে !
প্রশ্ন : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে এক লক্ষ মানুষ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দফতর ঘেরাও হবে।
বিকাশ ভট্টাচার্য : SIR নিয়ে তৃণমূল হম্বিতম্বি করছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য মোদী সরকার এই SIR করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এনডিএ সরকারের শরিক ছিলেন তখন বাংলায় অনুপ্রবেশ নিয়ে সংসদে খুব নির্লজ্জ ভাবে সরব হয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনুপ্রবেশের তথ্যকে হাতিয়ার করে মোদী সরকার SIR করছে। তাই কুণাল ঘোষ বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ঘেরাও করার কথা বলেন, কুণাল ঘোষের উচিত আগে ‘তাঁর পিসিকে ঘেরাও করা।
প্রশ্ন SIR নিয়ে বামেদের অবস্থান কি ?
বিকাশ ভট্টাচার্য : SIR তো নতুন কিছু নয়। ২০০২সালে তো SIR হয়েছিল। তখন তো এত হইচই হয়নি। তখন রাজ্যে বাম সরকার ছিল। আসলে তৃণমূল ও বিজেপি SIR নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছেন। যাতে মানুষ তৃণমূল সরকারের দিকে দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারেন। বিজেপি ও তৃণমূল একটা প্রচার করতে চায় রাজ্যে তৃণমূল ও বিজেপি ছাড়া কোন বিকল্প নেই।
