নিজস্ব সংবাদদাতা : এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে একের পর এক প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবারের সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই তিনি বলেন, গায়ের জোরে দু’-তিন মাসের মধ্যে কমিশন এসআইআর করেছে। তার ফলস্বরূপ দুর্দশায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে বিএলও-রা। এরমধ্যে অনেকে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করলেন অভিষেকের। একই সঙ্গে অভিষেক নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, যাতে তারা অবিলম্বে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ কোটি ভোটারের একটি পৃথক তালিকা প্রকাশ করে, যাঁদের ম্যাপিংয়ের সময় “যৌক্তিক অসঙ্গতি” মামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “১ কোটি ৩৬ লক্ষ ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ মামলার পৃথক তালিকা প্রকাশ না করা হলে তিনি নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর “ঘেরাও” করার কর্মসূচি নেবেন। তিনি জানান, ৩১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে এই ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ মামলার পৃথক তালিকা প্রকাশের দাবি তুলবেন। “যৌক্তিক অসঙ্গতি” হিসেবে চিহ্নিত ভোটারদের চিহ্নিত করতে গিয়ে অভিষেক বলেন, তাঁরা হলেন সেইসব ভোটার যাঁদের ক্ষেত্রে বংশ-ম্যাপিংয়ের সময় অদ্ভুত পারিবারিক-বৃক্ষের তথ্য সনাক্ত করা হয়েছে। যেমন ১৫ বছর বা তার কম বয়সে ভোটাররা বাবা হয়েছেন, ৪০ বছর বা তার কম বয়সে ভোটাররা দাদা হয়েছেন, এবং একই নামের বাবা-মা আছেন এমন ভোটাররা, ইত্যাদি।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া খসড়া ভোটার তালিকার দাবি ও আপত্তির শুনানির দ্বিতীয় পর্যায়ে এই “যৌক্তিক অসঙ্গতি” মামলাগুলি শুনানির জন্য তলব করা হবে। শুনানির প্রথম পর্যায়ে, “অ-ম্যাপিং” ভোটারদের, অর্থাৎ ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে স্ব-ম্যাপিং বা বংশ-ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে কোনও যোগসূত্র নেই এমন ভোটারদের শুনানির জন্য তলব করা হয়েছে। এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিষেক “যৌক্তিক অসঙ্গতি” মামলাগুলি সম্পর্কে দুটি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বুথ-স্তরের কর্মকর্তারা ভোটারদের দোরগোড়ায় গিয়ে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন কীভাবে একদিনে ১.৩৫ কোটি “যৌক্তিক অসঙ্গতি” মামলার সংখ্যা নির্ধারণ করতে পারে ? এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করার পরিবর্তে কমিশন কেন এই তারিখের “যৌক্তিক অসঙ্গতি” মামলাগুলি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফাঁস করছে,?”
তিনি এই বিষয়ে ইসিআই-এর মহাপরিচালক (তথ্য প্রযুক্তি) সীমা খান্নার ভূমিকারও অভিযোগ করেন। প্রশ্ন তোলেন তাঁর এই নির্বাচনী সংশোধনী প্রক্রিয়ায় কর্তৃত্ব নিয়েও। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক আরও জিজ্ঞাসা করেন যে কেন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করার সময়সীমা বাড়ালো না যা তারা অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রে অনুমোদন করল। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের জনগণ রাজ্যে কমিশন যে তাড়াহুড়ো করে সংশোধনী প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে তার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এই এসআইআরের কারণে রাজ্যে মোট ৫১ জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। যার মধ্যে কিছু বুথ-স্তরের কর্মকর্তা (বিএলও) রয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন ৪৫ জন। মোট ২৯ জন বিএলও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।”
কমিশনের কাছে তাঁর প্রশ্ন, কেন্দ্র-স্পন্সর বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে তহবিল প্রদানে কেন্দ্রীয় সরকারের অনীহা নিয়ে নির্বাচিত বিজেপি লোকসভা সদস্যরা চুপ কেন ? তিনি বলেন, “তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের দ্বারা নির্বাচিত, তাই তাঁদেরও ভোটারদের পক্ষে কথা বলার দায়িত্ব রয়েছে।”
