ওঙ্কার ডেস্ক: স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনে নাম বাদ গেলে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা, আর সেই আতঙ্কে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক তরুণী। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম মুস্তারা খাতুন কাজি। তিনি ভাতার থানার ভূমশোর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। চল্লিশোর্ধ্ব অবিবাহিতা ওই তরুণী নিজের দাদা-বৌদির সংসারে থাকছিলেন। শুক্রবার রাতে বাড়িতেই নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে ভাতার স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, এসআইআর আতঙ্কে চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওই তরুণী।
বিষয়টি নিয়ে মৃতার বৌদি সাবিরা খাতুন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘এসআইআরের ফর্ম জমা দেওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে ছিলেন মুস্তারা। ভোটার তালিকায় নাম থাকবে কি না, লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ হয়ে যাবে কি না, এসব নিয়ে চিন্তায় ছিলেন।’ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় মুস্তারার নাম ছিল। ২০ বছর আগে তাঁর বাবা আজিজুল হক কাজি এবং মা কাসেরা প্রয়াত হয়েছেন। এক দিদি এবং এক বোন বিবাহিত। দাদা সিরাজুল হক কাজি পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করে সংসার সামলাতেন। সেই পরিবারে থাকতেন অবিবাহিতা মুস্তারা। নিজে সরকারি প্রকল্পে পাওয়া অর্থ দিয়ে সাহায্য করতেন দাদার সংসারে। কিন্তু স্থানীয় লোকজনের মুখে তিনি শোনেন ভোটার তালিকায় নাম না উঠলে তাঁর সরকারি প্রকল্পের টাকা বন্ধ হয়ে যাবে।
