নিজস্ব সংবাদদাতা : SIR আবহে দলের কর্মী সমর্থকদের উদ্যেশ্য কড়া বার্তা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। ভার্চুয়াল বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য কোন রাখঢাক না রেখে বলেন, জেলায় জেলায় সুদৃশ্য পার্টি অফিস থাকবে না ! শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর তো দুর, ভার্চুয়াল বৈঠকে লোক পাবেন না। যদি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার কাজ সঠিক ভাবে না করতে পারেন।
উল্লেখ্য, SIR ‘সফল’ করতে জেলা চোষে বেড়াচ্ছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। দলের বুথ স্তরের এজেন্টদের প্রশিক্ষণও চলছে। ভোটার তালিকা নিবিড় সমীক্ষা কি ভাবে সফল করা যায় এই বিষয় বোঝাচ্ছেন বিজেপি নেতারা। বিজেপি সূত্রের খবর এই ভার্চুয়াল বৈঠকে শেষ বক্তা ছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। এই রাজ্যে SIR কতটা জরুরি তা বোঝাতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য কার্যত হুশিয়ারির সুরে বলেন, যে সব বিএলএ SIR বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা যদি মনে করেন, আর পাঁচটা কাজের মতো এই কাজটাও করতে হয়, তাই করছেন, তা হলে ভুল করছেন। এরপর তাঁর হুশিয়ারি, SIR রূপায়ণে বিজেপির ভূমিকায় যদি ঘাটতি থেকে যায়, তা হলে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পরে রাজ্যের বিজেপি কর্মী সমর্থক ও নেতাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে। বিজেপির দলীয় কার্যালয়গুলো দখল করে নেবে তৃণমূল। চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া উপায় থাকবে না।
ওই বৈঠকে বিএলএ-২,রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেতা, জেলা সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন। বিজেপির অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, অনেকে বলছেন, ১০০ শতাংশ দরকার নেই, SIR যদি ৮০ শতাংশও করা যায়, তা হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগবে না। সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে ভোট করালেও জিততে পারবে না তৃণমূল। অন্যদিকে SIR সঠিক ভাবে না করা হলে কোন ভাবেই তৃণমূলকে হারানো যাবে না।
বিজেপির একটি সূত্র বলছে, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২৫৮টি আসনে ভোটার সংখ্যা ‘অস্বাভাবিক বৃদ্ধি’ হয়েছে। রাজ্যে গত ১৪-১৫ বছরে ২০-২১ শতাংশ ভোটার বৃদ্ধি ‘স্বাভাবিক’। কিন্তু বেড়েছে ৩৫ শতাংশেরও বেশি। অস্বাভাবিক ভোটার বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা। এই কেন্দ্রে ৭৪ শতাংশ ভোটার বৃদ্ধি হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির। যদিও তৃণমূলের ব্যাখা, ‘গত ১৫ বছরে নিউটাউনে অজস্র নতুন ফ্ল্যাট, আবাসন, বাড়ি হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ নিউটাউনে থাকতে এসেছেন। তাই ভোটার বেড়েছে।’’
বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, তৃণমূলের তত্ত্বাবধনে নিউটাউনে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গাদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। শুধু রাজারহাট-নিউটাউন নয়, বারুইপুর পূর্ব, সোনারপুর উত্তর, ক্যানিং পূর্বে অস্বাভাবিক ভোটার বৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে কলকাতার তিনটি আসনে গত ১৫ বছরে ভোটারের সংখ্যা কমেছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন ভবানীপুর রাসবিহারী জোড়সাঁকো।
