ওঙ্কার ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। দলের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া এখন সম্পূর্ণভাবে অনিয়ম, অতিরিক্ত চাপ এবং অমানবিক আচরণের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের দাবি, এসআইআর–এর কাজের ফলে রাজ্যের বহু বুথ লেভেল অফিসারের ওপর প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হয়েছে এবং কয়েক জনের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে একে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নামে ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট বলে ব্যাখ্যা করেছে তৃণমূল।
দলের প্রতিনিধি কমিশনের দফতরে গিয়ে অভিযোগ জানায় যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু জায়গায় পুরনো ভোটারদের নাম ভুলভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। আবার নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই হয়নি, ফলে সাধারণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক বেড়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নেওয়ার নামে বিএলও-দের উপর অস্বাভাবিক দায়িত্ব চাপানো হয়েছে। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও আপলোডের ফলে তাঁদের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। এমনকি পরিবার-পরিজনও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন যে, অতিরিক্ত চাপেই আরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এখানে কোনো ভুল বা ত্রুটি মানেই একজন নাগরিকের ভোটাধিকার বিপন্ন হওয়া। এ প্রক্রিয়ায় যেভাবে নিয়মভঙ্গ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করে, কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দিষ্ট এলাকার ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে কি না, সে সন্দেহও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দলের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সততার ওপর জনগণের বিশ্বাস অটুট রাখতে হলে অবিলম্বে এসআইআর পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এই স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তৃণমূল বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দিতে চাইছে। তৃণমূলের বক্তব্য, মানুষের অধিকার রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব। কর্মী, সরকারি কর্মচারী বা সাধারণ ভোটার যেই হোক, কাউকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা চলতে পারে না।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এমন উত্তেজনা আগে দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কোথায়? বিএলও–রা কি যথেষ্ট সুরক্ষা পাচ্ছেন? এবং সবচেয়ে বড় কথা এই তালিকা কি সঠিক ও নির্ভরযোগ্য হবে সে বিষয়ে সন্দেহ থাকছে।
নির্বাচন কমিশন এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে কমিশন সূত্রের ধারণা, অভিযোগগুলির পর্যালোচনা শুরু হতে পারে। তৃণমূলের দাবি, এই প্রক্রিয়ার ত্রুটি শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, বরং বৃহত্তর গণতান্ত্রিক ব্যর্থতার প্রতিফলন। সেই কারণেই তারা অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। এখন নজর কমিশনের সিদ্ধান্তে। এসআইআর নিয়ে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তি, অভিযোগ এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনাকে সামনে রেখে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে কমিশন, সেটাই দেখার।
