ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে শুরু হয়ে গেছে এসআইআর। বুথ লেভেল অফিসাররা এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে বাড়ি বাড়িয়ে গিয়ে বিলি করছেন তাঁরা। কিন্তু কোচবিহারে এনুমারেশন ফর্ম দিতেই তা নিতে অস্বীকার করেছেন ছিটমহলের বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী ২০০২ সালের ভোটার তালিকা ধরেই এইবারের এসআইআর-এর কর্মসুচি শুরু করা হবে। কিন্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা ২০১৫ সালে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন, তাহলে সেক্ষেত্রে তাঁরা বিএলও দের কোন নথি দেবেন সে নিয়ে নিশ্চিত নন। তাই সেখান থেকে খালি হাতেই ফিরে আসতে হয় বুথ লেভেল অফিসার দের।
নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত এনুমারেশন ফর্মে উল্লেখ রয়েছে, আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কারও নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল কিনা তা জানাতে হবে। কিন্তু ছিটমহলের বাসিন্দারা জানান, তাঁরা তো ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ফলে ২০০২ সালে তাঁরা ভারতীয় ভোটার ছিলেনই না। এক বাসিন্দার কথায়, “আমরা যখনই ভারতের নাগরিকত্ব পেলাম, তখন ২০১৫ সাল চলছে। তাহলে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার তথ্য দেব কীভাবে?” ফলে, এলাকায় যখন বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওরা ফর্ম বিতরণ করতে যান, তখন অনেকেই তা নিতে অস্বীকার করেন। তাঁরা জানিয়ে দেন ফর্মের এই শর্ত তাঁদের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। বিএলওরা স্থানীয়দের আপত্তি শুনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের কথায়, “বাসিন্দারা ফর্ম নিতে নারাজ। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের জানাব।”
এস আই আর ঘোষনা হওয়ার পর থেকেই ছিটমহলের বাসিন্দারা অতঙ্কে বাস করছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। ভারতীয় সংবিধানের আর্টিকেল ১১ অনুযায়ী পার্লামেন্ট নির্দিষ্ট বিধান তৈরি করে নাগরিকত্ব এবং অবসান সংক্রান্ত বিষয়ে নিদান দিতে পারবে। এই নিয়ম মেনেই ২০১৫ সালে ছিটমহলের মানুষদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিল ভারত এবং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে করা আদমশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে। কিন্তু ওই এলাকার মানুষজনেরা জানিয়েছেন সেই সার্ভের সময় বহু মানুষের নাম বাদ গেছে। তাঁদের দাবি প্রসাশন যেন তৎপরতার সঙ্গে এই বিষয়টিতে নজর দেন।
এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী ও দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ। তাঁর মতে, ছিটমহলবাসীদের নাগরিকত্ব স্বীকৃত হয়েছে ২০১৫ সালে, তাই তাঁদের ক্ষেত্রে অন্যদের মতো নিয়ম প্রযোজ্য নয়। উদয়নবাবু বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি বুঝে পদক্ষেপ নিতে হবে, নয়তো অনেক নাগরিকই অন্যায়ভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।”
অন্যদিকে, স্থানীয় মানুষদের আশঙ্কা এভাবে পুরনো নথির শর্ত আরোপ করা হলে তাঁদের ভোটাধিকারই সংকটে পড়বে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, “যে সময় আমরা ভারতের নাগরিকই ছিলাম না, সেই সময়ের ভোটার তালিকা থেকে তথ্য চাওয়া মানে কি আমাদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি করা নয়?” তাঁরা জানিয়েছেন কমিশন যদি অতিসত্ত্বর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন তাহলে তাঁরা আন্দোলনে নামবেন। তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে কমিশনের ভাবা দরকার বলে দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ফলে এই ঘটনার পর ছিটমহল অঞ্চলে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া কার্যত থমকে গিয়েছে। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখন নজর দেওয়া হচ্ছে, কীভাবে আইনসিদ্ধ ভাবে এই নাগরিকদের উদ্বেগ মিটিয়ে নতুন করে প্রক্রিয়াটি চালু করা যায়।
