ওঙ্কার ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচি বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। এক প্রকাশ্য সভা থেকে তিনি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “দেশ ছেড়ে পালাবেন না, সরকার পাল্টালে খুঁজে বের করা হবে।” তাঁর এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অভিষেকের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন রাজ্যে শাসকদলবিরোধী শক্তির চাপে পড়ে পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের কর্মসূচির নামে প্রকৃত ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং ভুয়ো নাম যুক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, এটা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।”
অভিষেক আরও সতর্ক করে জানান, “নির্বাচন কমিশনের অফিসাররা যদি অন্যায়ের পথে যান, তাহলে তাদেরও জবাব দিতে হবে। সরকার পরিবর্তন হলে কেউ রেহাই পাবেন না।” তাঁর এই বক্তব্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, এই কর্মসূচির আড়ালে বিরোধীরা নির্বাচনী ময়দানে সুবিধা নেওয়ার চক্রান্ত করছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই হচ্ছে। কমিশনের বক্তব্য, এই কর্মসূচির লক্ষ্য ভোটার তালিকা আরও স্বচ্ছ করা, যাতে মৃত, স্থানান্তরিত বা ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ যায় এবং প্রকৃত ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয়। কমিশন দাবি করেছে, কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা রাজনৈতিক প্রভাব এখানে কাজ করছে না।
অন্যদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায় আরও এক গুরত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন কমিশনের দিকে। তাঁর কথা অনুযায়ী বাংলার বিধানসভার নির্বাচনের সমসময় কালে আসমেও নির্বাচনের কথা আছে। দেশে দ্বিতীয় দফায় মোট ১২ টি রাজ্যে এসআইআর চালু হলেও কেন আসামে সে নিয়ম কার্যকর হচ্ছে না। পাশাপাশি আসামের এবং বাংলাদেরশের সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারী দের শঙ্কাও বেশি। তাহলে কেন বাংলায় এসআইআর চালু হলেও বাদ থাকছে আসাম, সেই প্রশ্নও করেছেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়।
অপরদিকে বিরোধী দলগুলির মতে, তৃণমূল আসলে দুর্নীতি ঢাকতে এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা আড়াল করতে এই ইস্যুকে রাজনৈতিক রঙ দিচ্ছে। বিজেপির অভিযোগ, ভোটার তালিকায় বিপুল পরিমাণে ভুয়ো নাম যুক্ত হয়েছে, যা সরানো জরুরি। কমিশনের উদ্যোগে তারা আস্থা রাখছে বলে জানিয়েছে।
