প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি আর তাতেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় সাফল্য। টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘প্ল্যাটফর্ম’ পুরস্কার জিতে নিল নাগাল্যান্ডের পরিচালক থেজা রিওর ছবি ‘অঙ্গ’।
এবারের টরন্টো উৎসবে প্ল্যাটফর্ম বিভাগে ১২টি ছবির মধ্যে একমাত্র ভারতীয় ছবি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল ‘অঙ্গ’। সেখান থেকেই সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নিল এই ছবি। পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে ২০ হাজার কানাডিয়ান ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা।
কী নিয়ে গল্প?
ছবির প্রেক্ষাপট ষাটের দশকের গোড়ার দিকের নাগাল্যান্ড। ভারত-মায়ানমার সীমান্তের কাছে এক প্রত্যন্ত গ্রামে থাকে অঙ্গবা। পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়া এক আদিবাসী নাগা গ্রামের শেষ জীবিত প্রধান সে। অসুস্থ স্ত্রী আর ছোট ছেলেকে নিয়ে তার বিচ্ছিন্ন জীবন। সেই জীবনেই বদল আনে এক মার্কিন মিশনারির আগমন। মিশনারির হাত ধরে গ্রামে ঢোকে খ্রিস্টধর্ম ও নতুন রীতিনীতি। ধীরে ধীরে অঙ্গবার ছেলেও সেই নতুন জগতের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। এখান থেকেই শুরু হয় বাবা-ছেলের দ্বন্দ্ব। একদিকে নাগা সমাজের বহু পুরনো বিশ্বাস, আচার ও জীবনযাপন, অন্যদিকে নতুন ধর্মের প্রভাব – এই সংঘাতই ছবির মূল সুর।
নাগা সমাজের মৌখিক ইতিহাস, লোককথা ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস থেকে উপাদান নিয়েছেন পরিচালক। ষাটের দশকের আবহ ফুটিয়ে তুলতে পুরো ছবিটাই ১৬ মিলিমিটারে শুট করেছেন তিনি। ছোট থেকে বড় পর্দায় ‘অঙ্গ’ আসলে থেজা রিওর ২০২১ সালের একই নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবির বড় রূপ। সেই ছবিটি ক্লেরমঁ-ফেরাঁ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছিল। পূর্ণদৈর্ঘ্যের চিত্রনাট্য তিনি লিখেছেন রাজকুমার কান্দামুড়ির সঙ্গে যৌথভাবে।
নাগাল্যান্ডের বাসিন্দা রিও পড়াশোনা করেছেন ব্রিটেনের ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন স্কুলে। এর আগে ‘চেকপোস্ট’ ও ‘আদে (অন আ সানডে)’-এর মতো কাজ করেছেন। ছবিতে অভিনয় করেছেন বাফটা জয়ী অভিনেতা ডগলাস হেনশল। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন নাগাল্যান্ডের একাধিক আদিবাসী শিল্পী – আংহলং কোন্যাক, সোবিনো রেংমা, জেনপাই কোন্যাক, আমাহ কোন্যাক এবং ওয়াংটন কোন্যাক। গত ১৫ সেপ্টেম্বর টরন্টোতে ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়। এই পুরস্কার জয়ের ফলে ২০২৭ সালের অস্কারে আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি বিভাগে মনোনয়নের দৌড়েও জায়গা করে নিল ‘অঙ্গ’।