জয়ন্ত সাহা, জামুড়িয়া : ভারী বৃষ্টির পর ইসিএল-এর কেন্দা এরিয়ার নিউ কেন্দা কোলিয়ারির নিউ কেন্দা ওসিপি কুয়াঁরি-২ এলাকা থেকে ব্যাপক পরিমাণে ধোঁয়া বের হওয়ায় আতঙ্ক ছড়াল আশপাশের এলাকায়। শুক্রবার বৃষ্টির মধ্যেই OCP-এর বিভিন্ন অংশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ওসিপি-র কাছেই রয়েছে সালডাঙা মণ্ডলপাড়া ও বাউরিপাড়া। এই দুই এলাকায় কয়েকশো মানুষ বসবাস করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় আট মাস আগেও একইভাবে ওসিপি থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় ইসিএল কর্তৃপক্ষের কাছে আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছিল।
স্থানীয়দের আরও দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ওসিপি থেকে গ্যাস বের হওয়ার ঘটনায় দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়। গত জুন মাসেও ভারী বৃষ্টির পর ওসিপি এলাকা থেকে ব্যাপকভাবে ধোঁয়া বের হয়েছিল। সেই সময় আশপাশের বাসিন্দাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ।
শুক্রবার ফের ধোঁয়া বের হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, ওসিপি-র চারপাশে ইসিএলের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ঘেরাও বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ঘেরাও না থাকার কারণে প্রায়ই গবাদি পশু ওসিপি-র মধ্যে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয়দের বক্তব্য, প্রায় ৩২ বছর আগে, ১৯৯৪ সালের ২৫ জানুয়ারি নিউ কেন্দা কোলিয়ারিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় একই রাতে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তাঁদের দাবি, সেই খনি এলাকার ভূগর্ভস্থ আগুন এখনও পুরোপুরি নিভে যায়নি। মাঝেমধ্যেই মাটি ফেটে আগুন ও ধোঁয়া বের হওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের মতে, ভারী বৃষ্টির পর মাটির ফাটল বা পুরনো আগুনের মুখগুলি খুলে গেলে ভূগর্ভস্থ আগুন অক্সিজেন পেয়ে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলেই ওসিপি এলাকা থেকে ব্যাপক ধোঁয়া বের হয়।
ধোঁয়া বের হওয়ার ঘটনার পর ওসিপি-তে কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংবাদ লেখা পর্যন্ত ধোঁয়া বের হওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত ছিল। তবে ইসিএলের কোনও আধিকারিক ঘটনাস্থলে পৌঁছননি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এই বিষয়ে ইসিএল কেন্দা এরিয়ার মহাব্যবস্থাপক অক্ষয় চন্দ্র দে বলেন, বৃষ্টি হলে ওসিপি থেকে ধোঁয়া বের হওয়া নতুন কোনও বিষয় নয়। ভূগর্ভে আগুন থাকার কারণে বৃষ্টির সময় মাটির কিছু মুখ খুলে যায়, সেখান দিয়েই ধোঁয়া বের হয়। ওই মুখগুলি ডোজারিং করে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।