ওঙ্কার ডেস্ক: ছয়দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর উত্তর দিল্লির গীতা কলোনির যমুনা নদী থেকে উদ্ধার হল ত্রিপুরার কলেজছাত্রী স্নেহা দেবনাথের দেহ। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী স্নেহা বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন বলে বেরিয়েছিলেন, তারপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবার বহু চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে না পেরে ত্রিপুরার সাবরুম থানায় অভিযোগ দায়ের করে। বিষয়টি জানার পর ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাও হস্তক্ষেপ করেন।
ছয়দি পর দিল্লির গীতা কলোনির ফ্লাইওভারের কাছে নদীতে ভাসমান অবস্থায় স্নেহার দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, স্নেহার কাছে একটি হ্যান্ডনোট মিলেছে, যাতে আত্মহত্যার ইঙ্গিত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, পড়াশোনা নিয়ে কোনও চাপ ছিল না, বরং পারিবারিক সমস্যার জেরে মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন তিনি। তদন্তে উঠে এসেছে, গত ৭ জুলাই স্নেহা উত্তর দিল্লির সিগনেচার ব্রিজ পর্যন্ত একটি ক্যাবে গিয়েছিলেন। তারপর থেকে তাঁর মোবাইলের লোকেশন আর সরেনি। ক্যাব চালকের বয়ান অনুযায়ী, ওই দিন ভোরে স্নেহা ব্রিজের কাছে নামেন। প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানিয়েছেন, তাঁরা এক তরুণীকে ব্রিজের রেলিং-এর কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন। এরপর আর তাঁকে দেখা যায়নি। দীর্ঘ তল্লাশিতে নামে দিল্লি পুলিশ ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। নিগম বোধঘাট থেকে নয়ডা পর্যন্ত যমুনায় চিরুনি তল্লাশি চলে। শেষ পর্যন্ত গীতা কলোনির কাছে মেলে দেহ।
স্নেহার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা জানিয়েছেন, ৭ জুলাই ভোরে তিনি কয়েকজনকে ইমেল ও মেসেজ পাঠিয়েছিলেন, যেখানে মানসিক অস্থিরতার ইঙ্গিত ছিল। এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে সিগনেচার ব্রিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। স্নেহার পরিবার ও বন্ধুরা অভিযোগ করেছেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত সিসিটিভি থাকলেও সেগুলি অচল ছিল। ফলে সময়মতো খবর পাওয়া যায়নি। তাঁদের দাবি, সিসিটিভি সচল থাকলে হয়তো স্নেহাকে উদ্ধার করা সম্ভব হতো।
