ওঙ্কার ডেস্ক: ১৯ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরে একটি ভগ্নপ্রায় বাড়ি ভেঙ্গে পরায় উত্তেজনা ছড়ালো এলাকাজুড়ে। ভোররাতে সোদপুরের পানিহাটি পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডে ভেঙে পড়ল বহু পুরনো এক বসতবাড়ি। ইট-পাথরের স্তূপের নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে দেবকুমার শ্রিমানী নামে এক বাসিন্দার। শনিবারের এই দুর্ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বাড়িটি বেহাল অবস্থায় ছিল। তিন জন একসঙ্গে সেখানে বসবাস করতেন। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও বাড়ি সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় কাউন্সিলরের। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরবেলা আচমকাই ভেঙে পড়ে বাড়ির একাংশ। বিকট শব্দ শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে খড়দহ থানার পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকাজে নামে। গুরুতর আহত অবস্থায় দেবকুমারবাবুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় কাউন্সিলর ঝরনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বাড়িটির অবস্থা অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল। বহুবার সাবধান করা হয়েছিল, কিন্তু কেউ শোনেননি। এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য বাসিন্দাদের গাফিলতিই দায়ী”। প্রতিবেশী দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের ক্ষোভ, ‘‘বাড়ি ভেঙে পড়তে পারে এটা অনেকেই জানতেন। তবুও সাবধান হয়নি কেউ”। মৃতের বৌদি ভারতী শ্রিমানী কান্নাজড়িত গলায় জানান, ‘‘বারবার বলেছিলাম বাড়ি ছাড়তে, কিন্তু শোনেনি। সব শেষ হয়ে গেল”।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খড়দহ থানার পুলিশ। স্থানীয় পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে, বিপজ্জনক বাড়িগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই দুর্ঘটনা ফের একবার শহরতলির জীর্ণ বাড়ি রক্ষনাবেক্ষন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।