ওঙ্কার ডেস্ক: লাদাখের লেহ শহরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ চলাকালীন চারজনের মৃত্যু ঘটনার তদন্তের দাবি তুলেছেন বিশিষ্ট পরিবেশপ্রেমী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বর্তমানে তিনি জোধপুরের কারাগারে বন্দি। সেখান থেকেই লিখিত বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের খুঁজে বের করতে স্বাধীন তদন্ত একান্ত জরুরি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এমন তদন্ত শুরু না হওয়া পর্যন্ত তিনি অব্যাহতভাবে জেলে থাকতে প্রস্তুত। একইসঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি এবং আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ পথে এগিয়ে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন।
লেহর বিক্ষোভে অভিযোগ উঠেছে, কিছু বিক্ষোভকারী বিজেপির কার্যালয়ে ও পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠায় সংঘর্ষে চারজন প্রাণ হারান। এই ঘটনার পর প্রশাসন সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন তথা এনএসএ-সহ একাধিক আইনে মামলা দায়ের করেছে। তবে তাঁর সমর্থকরা অভিযোগ করেছেন, গ্রেফতারের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মানা হয়নি এবং গোটা ঘটনার পর্দার আড়ালে বহু প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে।
এদিকে সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে হস্তক্ষেপের আবেদন করেছেন। সোনাম ওয়াংচুকের ভাই এবং আইনজীবীও জেলে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সেখান থেকে তিনি লাদাখের মানুষকে ঐক্য ও সংযম বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এবং হিংসার পথ বর্জন করার অনুরোধ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আন্দোলনের মূল দাবি লাদাখকে ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আনা এবং পূর্ণ রাজ্য মর্যাদা প্রদান করা, যা শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই আদায় করতে হবে।
লেহ-র এই ঘটনার পর সমগ্র লাদাখ জুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় মানুষ ও রাজনৈতিক মহল বিচারবিভাগীয় তদন্ত ছাড়া শান্ত হবে না বলে স্পষ্ট জানাচ্ছেন। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসনও নজর রাখছে পরিস্থিতির ওপর, তবে জনমতের চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
