ওঙ্কার ডেস্ক: লাদাখের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে পরিবেশবিদ ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের গ্রেফতার ঘিরে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এর মধ্যেই মুখ খুললেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত। এবং এর পরিকল্পনা চলছে বিগত কয়েক বছর ধরে।
গীতাঞ্জলির অভিযোগ, গত চার বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছে করে ওয়াংচুককে বিরক্ত করছে। বিশেষ করে তাঁর নেতৃত্বে চলা শিক্ষা ও পরিবেশ-সংক্রান্ত উদ্যোগগুলিকে টার্গেট করা হচ্ছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ওয়াংচুক প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ‘সেকমল’-এর বিদেশি অনুদানের (এফসিআরএ) লাইসেন্স বাতিল করেছে। তবে গীতাঞ্জলি বলেন, বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে সংস্থার যে গবেষণা হয়েছে, তা মূলত খাদ্যে স্বনির্ভরতা নিয়ে অথচ সরকার সেটিকে বিকৃত রূপে তুলে ধরছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ছিল পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে ওয়াংচুকের যোগাযোগের প্রসঙ্গ। এই বিষয়ে স্ত্রী গীতাঞ্জলি সরাসরি দাবি করেছেন, ‘‘এই অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। শুধুমাত্র আন্দোলন দমন করার জন্যই এমন কথা ছড়ানো হচ্ছে।’’ তাঁর কথায়, সরকারি সংস্থাগুলি ওয়াংচুকের প্রতিষ্ঠিত সংস্থা হিমালায়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভস, লাদাখ এবং সেকমলকে চেপে ধরার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, ওয়াংচুকের কাজ ও আন্দোলনের উদ্দেশ্য সর্বদা স্বচ্ছ ও পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ার জন্য। কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তা ও আন্দোলনের শক্তিকে ভয়ের কারন মনে করেই সরকার আজ তাঁকে দেশদ্রোহীর আসনে বসানোর চেষ্টা করছে।
ওয়াংচুক বর্তমানে জেলে রয়েছেন। এদিকে তাঁর স্ত্রী সরব হয়ে সরকারের উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন, ‘‘জনগণের সমর্থন আটকানো যাবে না। সত্যিই যদি তদন্ত করতে হয়, তবে নিরপেক্ষভাবে সবকিছু খতিয়ে দেখা উচিত।’’ সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।
