ওঙ্কার ডেস্ক: মাকড়সা অথচ জাল তৈরি না করে ভূমিতে বাস করে। শিকার ধরতেও এরা হঠাৎ আক্রমণের পথে হাঁটে। নীরব ও বুদ্ধিমান শিকারি এমনই নয়া প্রজাতির ‘নেকড়ে মাকড়সার’ সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের বদ্বীপ অঞ্চলের সাগর দ্বীপে এই প্রাণীটির হদিশ পেয়েছেন জুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার গবেষকরা।
জুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার গবেষক ও বিজ্ঞানীদের এই নতুন প্রজাতির মাকড়সা আবিষ্কার এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র প্রমাণ করে। এই আবিষ্কার ভারতবর্ষে পিরাটুলা বর্গের প্রথম দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মূলত এশিয়ায় এই বর্গের নেকড়ে মাকড়সার দেখা মেলে, তবে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায়-ও এদের উপস্থিতি রয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নতুন এই প্রজাতিটির নাম পিরাটুলা অ্যাকিউমিনাটা। সাধারণ ভাবে এদেরকে নেকড়ে মাকড়সা বলা হয়। জাল তৈরি না করে এরা ভূমিতে বাস করে। নীরব ও বুদ্ধিমান শিকারি এই প্রজাতির মাকড়সা।
জুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার গবেষক সৌভিক সেন জানিয়েছেন, এই মাঝারি আকারের মাকড়সাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮-১০ মিলিমিটার এবং এর দেহে ফ্যাকাশে ক্রীম রঙের উপর বাদামি ও সাদা দাগ রয়েছে। পশ্চাদ্দেশে দুটি হালকা বাদামি ডোরা দাগ রয়েছে। পুরুষ মাকড়সার যৌনাঙ্গের একটি ছুঁচাল মূল বাহু ও স্ত্রী মাকড়সার ডিম্বাকৃতি স্পার্মাথিকা-র মতো গঠনগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা একে সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করতে সাহায্য করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘এই মাকড়সার গঠন এমনই অন্যরকম যে, প্রথম দেখাতেই বোঝা যায় এটি অচিহ্নিত একটি প্রজাতি। আমরা কয়েক সপ্তাহ ধরে এর গঠনগত বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছি।’ গবেষক দলে ছিলেন সুধীন পিপি, প্রদীপ এম শঙ্করন। তাঁদের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জুটাকসা’ নামক বৈজ্ঞানিক সাময়িক পত্রিকায়।
