চুলের ডগা ফাটা বা স্প্লিট এন্ডস হলো চুলের শেষ প্রান্তের কিউটিকল স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চুল দুই বা একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়া। এটি সাধারণত চুলের অতিরিক্ত শুষ্কতা, ঘর্ষণ ও রাসায়নিক বা তাপের ক্ষতির কারণে হয়। একবার ডগা ফেটে গেলে তা স্থায়ীভাবে জোড়া লাগানোর উপায় নেই; তবে সঠিক যত্নে ক্ষতি কমানো এবং নতুন করে ফাটা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
কেন চুলের ডগা ফাটে?
নিয়মিত হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লিং আয়রনের অতিরিক্ত ব্যবহার।
বারবার চুলে রং, ব্লিচ, পার্ম বা অন্যান্য রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট করা।
অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা বা চুলের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত কন্ডিশনার ব্যবহার না করা।
ভেজা চুল জোরে আঁচড়ানো কিংবা শক্ত করে টেনে বাঁধা।
রুক্ষ তোয়ালে দিয়ে চুল ঘষে শুকানো।
রোদ, ধুলো, দূষণ ও শুষ্ক আবহাওয়ার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব।
চুলের ডগায় পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকা এবং দীর্ঘদিন চুল না ছাঁটা।
উপশম ও যত্ন
ফাটা ডগা পুরোপুরি ঠিক করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ট্রিম বা কেটে ফেলা। এরপর নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল নরম ও আর্দ্র থাকে। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার মূলত চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে ডগা পর্যন্ত লাগানো যেতে পারে। চুলের ধরন অনুযায়ী অল্প পরিমাণ হেয়ার সিরাম বা লিভ-ইন কন্ডিশনারও ব্যবহার করা যায়।
চুল শুকানোর সময় তোয়ালে দিয়ে ঘষার পরিবর্তে আলতোভাবে জল শুষে নিতে হবে। ভেজা চুলে টান না দিয়ে চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে ধীরে ধীরে জট ছাড়ানো ভালো। অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার করলে হিট-প্রটেক্ট্যান্ট ব্যবহার করা এবং সম্ভব হলে কম তাপমাত্রা বেছে নেওয়া উচিত।
কী বিষয়ে সতর্ক থাকবেন?
চুল শক্ত করে বাঁধা, অতিরিক্ত টান দেওয়া এবং একই ধরনের হেয়ারস্টাইল দীর্ঘক্ষণ রাখা এড়িয়ে চলুন। ঘন ঘন রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট না করাই ভালো। চুলের ডগা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনমতো ট্রিম করলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়া কমানো যায়।
শুধু তেল, মাস্ক বা কোনো ঘরোয়া উপাদান দিয়ে ইতিমধ্যে ফেটে যাওয়া ডগা স্থায়ীভাবে জোড়া লাগানো সম্ভব নয়—এসব সাময়িকভাবে চুলকে মসৃণ দেখাতে পারে। যদি চুল অস্বাভাবিকভাবে ভাঙতে থাকে, প্রচুর চুল পড়ে বা মাথার ত্বকে চুলকানি, ক্ষত কিংবা অন্য সমস্যা থাকে, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।