স্পোর্টস ডেস্ক : ইডেন দেখালো নিজের মহিমা। যেখানে ভারতের অন্য স্টেডিয়ামে টেস্ট ম্যাচে গ্যালারি ফাঁকা থাকে একপ্রকার মাছি ওড়ে সেখানে ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টের প্রথমদিন অফিসিয়াল ঘোষণা দর্শক হয়েছে ৩৬ হাজার ৫১৩। শীতের রোদ গাঁ মাখিয়ে একটা রোমাঞ্চকর টেস্টের আশা করা হয় সেখানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন শিপের সেরা দক্ষিণ আফ্রিকা একপ্রকার মুখ থুবড়ে পড়লো ভারতীয় বোলিয়ের সামনে। আর ভারতের বোলিংয়ের নায়ক সেই জসপ্রীত বুমরাহ। মহ সিরাজের আগমনে কিছুটা ব্যাক ফুটে চলে গেছিলেন বুমরাহ। তবে ইডেন তাকে পুনজন্ম দিল।
টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।দক্ষিণ আফ্রিকা কিন্তু শুরুটা অসাধারণ করে। প্রথম ১০ ওভারে তাদের দুই ওপেনার রিকিলটন আর মাকড়ম ওয়ান ডে মেজাজে শুরু করেন। তবে দলের ৫৭ রান আর ব্যক্তিগত ২৩ রানের মাথায় রিকিলটনকে অসাধারণ বোল্ড করেন জসপ্রীত বুমরাহ ইডেন টেস্টের প্রথম দিনেই ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন। ইডেনে শেষবার ২০১৯ সালে গোলাপি বলের টেস্ট খেলার সময় ইশান্ত শর্মা ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেন। নতুন মাইলস্টোনও ছুঁয়ে ফেললেন তারকা পেসার। ২০০৮ সালে শেষবার কোন ফাস্ট বোলার কোনও টেস্টের প্রথম দিনেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। এরপর গত ১৭ বছরে এই নজির কারও ছোঁয়া সম্ভব হয়নি। সেই তালিকায় এবার নাম লেখালেন জসপ্রীত বুমরাহ। ২০০৮ সালে এই মাইলস্টোন ছুঁয়েছিলেন ডেল স্টেন।
শুক্রবার জসপ্রীত বুমরাহ ইডেন টেস্টের প্রথম দিনেই ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন। নিজের ১৪ ওভারের স্পেলে পাঁচটি ওভার মেডেন দেন। ২৭ রান খরচ করে ৫ উইকেট তুলে নেন। এই নিয়ে কেরিয়ারে ১৬ বার ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার নজির গড়লেন ডানহাতি পেসার। এদিন প্রোটিয়া ব্যাটিং লাইন আপের মধ্যে মাকরাম রিকেলটন, জোর্জি, হারমার ও মহারাজের উইকেট তুলে নেন বুমরাহ। ৫৭ রানের মাথায় প্রথম উইকেট পড়ে প্রোটিয়াদের। মার্করামও ফেরেন তার পরপরেই (৩১)। বল একটু পুরনো হলে কুলদীপ যাদবকে একদিক থেকে বল করাচ্ছিলেন গিল। পরিকল্পনার ফল মিলল হাতেনাতেই। তাঁর বলেই লেগ স্লিপে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা (৩)। মিডল অর্ডার থেকে বেশির ভাগ উইকেটই নিলেন পেসাররা। টনি ডি জর্জিকে ফেরালেন বুমরাহ (২৪)। এক ওভারে দুটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে দুই উইকেট নিয়ে সিরাজ ফেরালেন কাইল ভারানে আর মার্কো জেনসেনকে। কর্বিন বস্চকে এলবিডব্লিউতে ফেরান অক্ষর। ১৫৯ রানে শেষ দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৭ রানে ১ উইকেট ভারতের। জয়সওয়াল ১২ রানে বোল্ড হন জেনসনের বলে। ক্রিজে আছেন ওয়াসিংটন সুন্দর ৬ আর কে এল রাহুল ১৩ রানে। ভারত তুলেছে ৩৭ রান ১ উইকেট হারিয়ে। এই টেস্ট ইনিংসে জয় টার্গেট থাকবে ভারতের। তবে দ্বিতীয়দিনে প্রথম ঘন্টা ইডেনের হাওয়া চ্যালেঞ্জ থাকবে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের।
নায়ক বুমরাহ অবশ্য নিজের কামব্যাক নিয়ে বলেছেন, “ইডেনের উইকেট থেকে সাহায্য পাই। সব সময় ভালো লাগে উইকেট পেলে। কিন্তু এই টেস্টে এখনও কাজ শেষ হয়নি দলের প্রয়োজন অনুসারে বল করতে পারলে। আমি সব সময় খেলতে চাই আমার শরীর পারমিট করলে। আমি সব ফরম্যাটে খেলতে চাই সেরা টা দিতে চাই।” তিনি আরও বলেন, টেস্টে ক্রিকেটে প্রথম শিখতে হয় ধৈর্য, এখানে আউট ফিল্ড ফাস্ট। টেস্টে সব জায়গায় কিন্তু ধৈর্য বজায় রাখতে হয়। খুব কম হয় যেখানে মাত্র ৪,৫ ওভারে উইকেট পাই। বাকি সময় আমাদের উইকেট পেতে সময় লাগে।”

এক প্রশ্নের উত্তরে বুমরাহ বলেন, কেন সুন্দরকে তিন এ সেটা আমি বলতে পারব না। এটা থিঙ্ক ট্যাংক এর সিদ্ধান্ত। প্রথম ওভারে বোলিং বিভিন্ন রকম হচ্ছিল কারণ বল শক্ত ছিল এরপর বল নরম হওয়ার পর থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করি। বোলিং আমাদের কম্বিনেশনের উপর। অনেক সময় আমার ভালো হয়। তাই অতিরিক্ত তিন চার ওভার করে।”
ইডেনের পিচ নিয়ে বুমরাহ বললেন, এটাই টেস্ট ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ। দক্ষিণ আফ্রিকা তে ৫সেশনে ম্যাচ শেষ হয়। ইংল্যান্ডে ভিন্ন পরিবেশ এ খেলা হয়। আমাদের এটা মানিয়ে নিতে হয়। উইকেট অনুসারে রিভাস সুইং করি।’ দক্ষিণ আফ্রিকার হেড কোচ আসলি প্রিন্স বললেন, আমরা কোন অজুহাত দিতে চাই না। বুমরাহ পৃথিবীর এক নাম্বার বোলার ওর সামনে আমরা দাঁড়াতে পারিনি।’
