কল্যাণীতে দিল্লির বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম রঞ্জি ম্যাচে অপ্রতিরধ্য বাংলা দল।অভিষেক পোড়েলের ১১৪ এবং সুদীপ ঘরামির ১২২ রানের অপরাজিত ইনিংসের সুবাদে দিল্লিকে প্রথম ইনিংসে পিছনে ফেলে দিয়েছে বাংলা। ১০৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া বাংলাকে তুলে ধরেন সুদীপ আর অভিষেক । দিল্লির ২৪০ রানের জবাবে বাংলার রান ৩ উইকেটে ৩০৪। ৬৪ রানে এগিয়ে গিয়েছেন ঈশ্বরণেরা। ম্যাচ ড্র হলেও বাংলার ৩ পয়েন্ট পাওয়া নিশ্চিত। ওপেন করতে নেমে অধিনায়ক ঈশ্বরণ করেছেন ৩৪। অন্য ওপেনার অঙ্কুর পাল (১৭) চার নম্বরে নামা সুদীপ চট্টোপাধ্যায় রান পাননি। তা-ও অভিষেক-ঘরামি জুটির ১৯৯ রানের জুটি চনমনে রেখেছে বাংলাকে।এখনও ক্রিজে রয়েছেন অভিষেক পোড়েল আর সুদীপ ঘরামি।তবে সুদীপের শতরানের থেকেও অভিষেক পোড়েলের শতরান সত্যিই লড়াইয়ের কথা বলে।তাঁর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন চিকিৎসর পড়ুয়া এক তরুণী। জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হয়েছিলেন অভিষেক পোড়েল।৩৬ দিন কারাগারে ছিলেন চন্দননগরের ক্রিকেটার। বারবারব তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ হয়েছিল। অবশেষে গত ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে জামিন দেয় আদালত। মুক্তি পান অভিষেক।সেই সুযোগ কাজে লাগালেন অভিষেক। ২ রানে তাঁর সহজ ক্যাচ পড়েছিল। আয়ূষ বাদোনির পরে স্লিপে লোপ্পা ক্যাচ ফেলেন দেন সনৎ সাঙ্গওয়ান। তারপর নিজেকে নতুন অঙ্গীকারে বেঁধে ফেলেন বাঁহাতি ব্যাটার। ৭০ বলে হাফসেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি করলেন ১৩৭ বলে। ১১টি চার, ১টি ছক্কা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।
সেঞ্চুরি পূর্ণ হতেই হেলমেট খুলে ফেলেন তিনি। ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে মুখের ওপর দিয়ে হাত চালানোর ইঙ্গিত করেন। মুখ বন্ধ রাখার ইশারা। তারপরই ব্যাট দেখিয়ে গ্লাভস নাড়িয়ে বোঝান, ব্যাটই তাঁর হয়ে কথা বলবে। আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না পোড়েল। মাঠে হাঁটু গেড়ে বসে কাঁদতে শুরু করলেন। স্বস্তির কান্না। মুক্তির কান্না। ঘরামি ও আম্পায়ার এসে তাঁকে সান্ত্বনা দিলেন। নতুন করে স্টান্স নিলেন পোড়েল। চেহারায় নতুন শপথ।বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা বললেন, ও যেভাবে ফিরে এলো খারাপ সময় থেকে এটাই প্রমাণ করে যে ও কত বড়ো মাপের ক্রিকেটার এই শতরান ও আর বাংলার জন্য অন্যতম সেরা শতরান।