স্পোর্টস ডেস্ক : ফেডারেশনকে চিঠি লিখে সংবিধান তৈরি করে নির্বাচনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ফিফা। অন্যথায় আবার ৩ বছর পরে নির্বাসন। চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে গঠনতন্ত্র তৈরি করে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। এর আগে ২০২২-এর ১৬ অগাস্ট ফেডারেশনকে নির্বাসিত করেছিল ফিফা।
কারণ সেই সময় সুপ্রিম কোর্ট নিয়োজিত প্রশাসকদের কমিটি ফেডারেশনের কাজকর্ম দেখছিল, যা ফিফার কাছে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছিল। সেই সময় নির্বাসন কাটাতে দ্রুত নির্বাচন করে একটি কমিটি তৈরি হয়েছিল । এআইএফএফের সভাপতি হয়েছিলেন কল্যাণ চৌবে। তখনই ঠিক হয়েছিল, সংবিধান তৈরি করে নতুন করে নির্বাচন হবে। তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলে। যদিও রায় দান হয়নি। তাতেই এ বার ফের সঙ্কটে পড়ল ফেডারেশন।
শুধু তাই নয়, ক্লাব ফুটবলও অন্ধকারে ডুবল। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ দুইয়ে মোহনবাগান ও এফসি গোয়া দুই দলেরই খেলা আসন্ন। ৩০ অক্টোবরের মধ্যে এই সংবিধানকে অনুমোদিত না করতে পারলে দুই দলের ওপরই কোপ পড়বে। একইভাবে এএফসি মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের জন্য ইস্টবেঙ্গল মহিলা দল যোগ্যতা অর্জন করলে বাদ পড়বে তারাও। ফিফার সরাসরি নির্দেশ, ক্রীড়া বিল, ফিফা ও এএফসি-র নিয়ম অনুসারে দ্রুত নতুন সংবিধান তৈরি করতে হবে। তার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ফিফা। এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবেকে পাঠানো যৌথ চিঠিতে সংবিধান বাস্তবায়নের অচলাবস্থার কারণে ভারতের ফুটবলের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার ফলে প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত সঙ্কট হয়েছে। এরফলে ইস্টবেঙ্গলের মহিলাদের এএফসি কাপ যেমন ধাক্কা খাবে তেমনই অসুবিধা হবে মোহনবাগানের এএফসি কাপে খেলা। যদিও ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে আশাবাদী।এদিন তিনি বললেন, ‘আমার মনে হয় ফিফার তরফে যেটা জানানো হয়েছে সেটাকে মান্যতা দিয়ে উপযুক্ত পথ অবলম্বন করা উচিত। আমি আশা করি তাঁরা সেটা করবেন। তবে আমার কাছে আরও একটা বিষয় আছে যারা ফুটবলপ্রেমী, যারা ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত আগে ও ছিল সবাই একত্রিত হয়ে ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিংবা এই লজ্জার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে এই ফিফার চিঠিকে মান্যতা দিয়ে কাজ করা উচিত। তবে আমি খুব আশাবাদী। যে ভারতীয় ফুটবল কখনও বন্ধ হবে না। ভারতবর্ষে ফুটবলের সমর্থক সবচেয়ে বেশি। যেকোনো খেলার থেকে। আমার মনে হয় সমস্যা মিটে যাবে।” আর মোহনবাগান সভাপতি দেবাশিস দত্ত বললেন, মোহনবাগান তো এএফসি কাপ খেলবে এমএলএ কাপ, কাউন্সিলর কাপ তো খেলবে না ভারতীয় ফুটবলের যারা, যারা দায়িত্বতে তারা ঠিক করুক।
