স্পোর্টস রিপোর্টার, ওঙ্কার বাংলা: মরক্কো মোকাবিলা দিয়ে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টারফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হার ভুলে আমেরিকার মাটিতে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নামবে কার্লেস আনসেলোত্তির দল। কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো যে ছেড়ে কথা বলবে না তাদের, সেটা বুঝতে অসুবিধা নেই। আর তাই প্রতিপক্ষের শক্তি মাথায় রেখে ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ কার্লেস আনসেলোত্তির মুখে সতর্ক ভরা প্রতিক্রিয়া, ‘ ভয় জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।’ অর্থাৎ তিনি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন মরক্কোকে হাল্কাভাবে নিলে ভুগতে হবে।
ক্লাব স্তরে আনসেলোত্তির সাফল্য প্রশ্নাতীত। চেলসি, বায়ার্ন মিউনিখ, প্যারিস সাঁ জাঁ, রিয়েল মাদ্রিদ ও অন্য ক্লাব দলের কোচ হিসেবে। তাঁর দখলে রেকর্ড ৫টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেতাব। এত সাফল্যের পরও তাঁর মুখে ভয়ের কথা। মনে করেন, এই ভয়টা থাকা ভাল। বলেন, ‘ ভয় জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যদি তোমার ভয় না থাকে, তাহলে তোমাকে ভুগতে হতে পারে। তুমি সামনে সিংহকে দেখে বেড়াল ভাবতে পার। ভয় তোমার জীবন বাঁচাতে পারে। মরক্কোর বিরুদ্ধে লড়াইটা এমনই। সবসময় সতর্ক ও ফোকাসড থাকতে হবে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে। মনে রাখতে হবে তোমার দল একটা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে। আফ্রিকার সবচেয়ে সফল দল মরক্কোর বিরুদ্ধে সেরা দিতে তৈরি থাকতে হবে। একটা কমপ্লিট পারফরমেন্স তুলে ধরতে হবে ম্যাচ জিততে।’
আনসেলোত্তির গলায় মরক্কো সম্পর্কে সমীহের সুর। বলেন, ‘ আমি আশাবাদী চরিত্রের মানুষ। একইসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু অসাবধানী নই। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে তৈরি। আধুনিক ফুটবলের সার্বিক পারফরমেন্স খেলায় তুলে ধরতে চাই। কিন্তু মনে রাখতে হবে বিশ্বকাপে কোনও দল ছোট নয়। বিশেষ করে মরক্কো তো নয়ই। ওরা আফ্রিকার অন্যতম সেরা দলের মধ্যে একটা।’কোচ আনসেলোত্তি সাফ জানিয়েছেন, মরক্কোর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ব্রাজিল দলে থাকছেন না নেইমার। কারণ কাফ মাসলের চোট সারাতে এখনও ব্যস্ত তিনি। আনসেলোত্তির মতে, ‘ নেইমার খুব খাটছে, চোট সারিয়ে ফিট হতে। আমি ওকে দলে রেখেছি ওর দক্ষতার জন্য শুধু নয়, ওর অভিজ্ঞতা ও দলের বাকি নবীন ফুটবলারদের প্রেরণা জোগানোর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে।’
মরক্কো ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের মনোভাব ও লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন ব্রাজিল দলের অন্যতম সেরা অস্ত্র ভিনিসিয়াস জুনিয়ার। বলেন, ‘ শুধু বিশ্বকাপে অংশ নিতে এসেছি এমন নয়, ব্রাজিলকে তার শ্রেষ্ঠত্বের আসনে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়েই আমেরিকায় পা রেখেছি। আমাদের জন্য বিশ্বকাপটা মরক্কো ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে না, আমাদের লক্ষ্যপূরণে প্রস্তুতিটা শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকেই। আমরা প্রত্যেকে খুব ফোকাসড। আমি ব্যক্তিগত স্বীকৃতি বা খেতাবের কথা ভাবি না। আমি সেরা ফুটবলারের পুরস্কার পাওয়ার লক্ষ্যেই মাঠে নামব না, আমার একটাই লক্ষ্য থাকবে ব্রাজিলের জার্সিতে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপ জেতা। বিশ্বকাপ সবসময় অন্য টুর্নামেন্টের থেকে আলাদা। গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টারফাইনালে টাইব্রেকারে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হার আমাদের শিখিয়েছে, ম্যাচের শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত এতটুকু আলগা ভাব দেখানো চলবে না।’