স্পোর্টস ডেস্ক: ডুরান্ড কাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মঙ্গলবার, কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হয় মোহনবাগান বনাম সাউথ ইউনাইটেড এফসি। সেই ম্যাচেই কার্যত, সবুজ মেরুন ঝড়। যুবভারতীতে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিল মোহনবাগান। ডুরান্ড কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মঙ্গলবার, সাউথ ইউনাইটেড এফসি-কে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল সবুজ মেরুন ব্রিগেড। নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ জয় এবং সেটাও আবার ৮-০ গোলে। প্রসঙ্গত, ডার্বি জিতে এই ম্যাচে খেলতে নামে সবুজ মেরুন ব্রিগেড। এই ম্যাচের শুরু থেকেই ঝড় তোলে পানাজিওটিস ডিলম্পেরিসের ছেলেরা। সেই সুবাদেই খেলার ৪ মিনিটে গোল। সাহাল আবদুল সামাদের পাস থেকে দুর্দান্ত গোল করেন মনবীর সিং।
পুরো খেলা জুড়ে চাপ বজায় রাখে মোহনবাগান। ম্যাচের ১০ মিনিটে আবার গোল। অনিরুদ্ধ থাপার কর্নার থেকে অনবদ্য হেডে গোল করেন আলবার্তো রডরিগেজ। এরপর আবার ম্যাচের ১৪ মিনিটে, লিস্টনের পাস থেকে বল পেয়ে জোরালো শট নেন মনবীর। তবে এক্ষেত্রে ভালো সেভ করেন সাউথ ইউনাইটেড এফসি-র গোলকিপার সুনীল সিং। ২২ মিনিটে সাহালের বাড়ানো বলে মনবীরের দ্বিতীয় ও চতুর্থ গোল মোহনবাগানের। ৩২ মিনিটে সাহালের শট পোস্টে না লাগলে, তখনই সবুজ মেরুন ব্রিগেড ৫ গোলে এগিয়ে যেত। ৩৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া সাহালের জোরালো শট আবার পোস্টে লেগে ফেরে। তার আগে সাহাল গোল করার তিনটি প্রচেষ্টা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। বিরতির ঠিক আগে ডেজানের পাস থেকে বক্সের মাঝে সুবিধাজনক অবস্থায় বল পেয়েও, ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে পারেননি মনবীর। পারলে তখনই হ্যাটট্রিক হয়ে যেত মনবীরের। ৫৪ মিনিটে আলার্তোর শট পোস্টে লাগায় সেইমুহূর্তে মোহনবাগানের গোল সংখ্যা আর বাড়েনি। তবে ৬০ মিনিটে থাপার কর্নারে মনবীরের হ্যাটট্রিকের গোলে মোহনবাগানের ঝুলিতে ৫ নম্বর গোল। ৬৯ মিনিটে ডেজানের মাইনাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজ গোলে বল পাঠান সাউথ ইউনাইটেডের নোয়েল। বাগানের ৬ নম্বর গোল। ৯০ মিনিটে বদলি সুহেলের গোলে ৭ গোল। সংযুক্তি সময়ে সায়নের পাস থেকে সুহেলের দ্বিতীয় ও মোহনবাগানের ৮ নম্বর গোল। সিআইএসএফের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের দেওয়া ৮ গোল ছুঁয়ে ফেলল বাগান ব্রিগেড।
৩৭ মিনিটে প্রথম একটা গোল করার প্রচেষ্টা নজর কেড়েছিল সাউথ ইউনাইটেড এফসির পক্ষে। বক্সের বাইরে থেকে ড্যানিয়েলের নেওয়া মাটি ঘেঁষা জোরালো শট তৎপরতার সঙ্গে বাঁচান মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে। সারা ম্যাচে ওই একবারই সাউথ ইউনাইটেডকে চোখে পড়েছিল। ডুরান্ডের সংগঠকরা আশা করি উপলব্ধি করছেন, এইসব নিম্মমানের দল খেলিয়ে টুর্নামেন্টের জৌলুস বাড়ানো দূরে থাক, অদূর ভবিষ্যতে ধরে রাখাও সম্ভব নয়। যুবভারতী স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে জেমি ম্যাকলারেন বলে হাত কামড়েছেন, এমন একটা দলের বিরুদ্ধে মাঠ নামার জন্য তৈরি না থাকায়। যদি নামতেন, এটা ডাবল হ্যাটট্রিক করেও ফেলতেন সম্ভবত। হাতে গোনা সবুজ মেরুন সমর্থকরা মাঠ ছাড়লেন আনন্দে আত্মহারা হয়ে।