স্পোর্টস ডেস্ক : ইডেনে জিতল ক্রিকেট। টিকিটের চাহিদা না থাকা বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহারে ভাবা হয়েছিল স্কটল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ম্যাচে ইডেনে মাছি উড়বে। সেখানে ১৮ হাজারে বেশি দর্শক মাঠে এল। ৫০ ওভারের ম্যাচ হলে সংখ্যাটা বাড়লেও আশ্চর্য হওয়ার থাকতো না। আর রোমারিও শেফার্ড এর হ্যাটট্রিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫ রানে জিতল। যা ক্রিকেট ইতিহাসের দশম হ্যাটট্রিক। জিতল ক্রিকেটও।
এদিন ইডেনে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় স্কটল্যান্ড। ইডেনের স্পোর্টিং উইকেটে প্রথমে ব্যাট করে ক্যারিবিয়ানরা তোলে ৫ উইকেটে ১৮২ রান। শিমরন হেটমেয়ার মাত্র ৩৬ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন। শেষদিকে ১৩ বলে ২৬ রানের ইনিংস খেলেন সেরফান রাদারফোর্ডও। রভম্যান পাওয়েল ১৪ বলে করেন ২৪ রান। ১৮৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা। ইডেনের এই পিচে কাজটা মোটেই অসাধ্য ছিল না। কিন্তু সেই টার্গেট নিয়ে খেলতে নেমে শুরুটা বিশ্রী হয় স্কটিশদের। ষষ্ট ওভারে মাত্র ৩৭ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট চলে যায় তাদের। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ান স্কটিশ অধিনায়ক বেরিংটন টম ব্রুস। তাঁরা জুটি বেঁধে স্কটিশদের লড়াইয়ে ফেরান। ৭৮ রানের সেই জুটির লড়াই দেখে মনে হচ্ছিল হয়তো এবার স্কটিশরা লড়াইয়ে ফিরছে। কিন্তু অধিনায়ক বেরিংটনের উইকেট পড়তেই শুরু হয় ভাঙন। ম্যাচের ১৫তম ওভারে এসে হ্যাটট্রিক-সহ চার উইকেট তুলে নেন শেফার্ড। পরপর তাঁর শিকার হন ম্যাথু ক্রস, মিকেল লিস্ক অলিভার ডেভিডসন। সেই ওভারেই আউট হন সেফিয়ান শরিফ। সব মিলিয়ে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেয়েছেন শেফার্ড। তাঁর ওই স্পেলেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় স্কটিশদের জয়ের সব আশা। তাদের ইনিংস শেষ হয় ১৪৭ রানে। ৩৫ রানে জয়ী হয় ক্যারিবিয়ানরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক সাই হোপ বলে গেলেন, হেট্ মায়ার অনেক দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করেছে। আশা করছি গোটা টুর্নামেন্টে এই ফর্ম বজায় রাখবে। আমরা বিশ্বকাপে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০১৬ সালের মত আবার ট্রফি চাই। প্রথম দিনের ম্যাচের জন্য ইডেন চত্বরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালীন ইডেনের সামনে দিয়ে সব ধরনের গাড়ির চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কোনও ধরনের পার্কিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুরো এলাকা নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে, যাতে দর্শকরা খেলাটি স্বাচ্ছন্দ্যে উপভোগ করতে পারেন এবং কোনও ধরনের অসুবিধা না হয় তাই ছিল ব্যবস্থা।
