স্পোর্টস্ ডেস্ক: বিশ্বকাপের কোয়াটার ফাইনালে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তির লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল স্পেন। দুর্দান্ত দলগত ফুটবল, মাঝমাঠের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্সে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল লা রোহা। জয়ের পর উচ্ছ্বাসে ভাসছে স্প্যানিশ শিবির, আর হারের হতাশায় কৌশলগত ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে সতীর্থদের পারফরম্যান্স নিয়েই প্রশ্ন তুললেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে।
ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেন। ম্যাচের ২২ মিনিটে, সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়য়ারজাবাল। ৩০ মিনিটের মাথায়, মাঠ ছাড়েন ফরাসি রক্ষণভাগের খেলোয়াড় উইলিয়াম সালিবা। তাঁর জায়গায় মাঠে নামেন ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া। এরপর ৩৪ মিনিটে, ফ্যাবিয়ান রুইজের অ্যাসিস্ট থেকে বল পেয়ে দানি অলমোর ডান পায়ের শট অনেকটা উপর দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ফলাফল নিয়েই। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অ্যাড্রিয়েন র্যা বিয়টের জায়গায় মাঠে আসেন মানু কোনে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই প্রায় গোলের কাছে পৌঁছে গেছিলেন ইয়ামাল। কিন্তু একটুর জন্য মিস করেন। অন্যদিকে, খেলার ৫২ মিনিটে, মিকেল ওয়য়ারজাবালের শট বাইরে চলে যায়। তবে স্পেন যেন রীতিমতো ঝড় তোলে ফরাসি পেনাল্টি বক্সে। মুহুর্মুহু আক্রমণ শানাতে থাকে তারা। কার্যত, মাঝমাঠ পুরোপুরিভাবে স্পেনের দখলে চলে যায়। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে, দানি অলমোর অ্যাসিস্ট থেকে পেদ্রো পোরোর ডান পায়ের অনবদ্য শট সোজা জালে জড়িয়ে যায় এবং স্পেন খেলায় লিড নেয় ২-০ ব্যবধানে।
খেলার ৬৫ মিনিটে, মাইকেল ওলিস ক্রস থেকে পাওয়া বলে অরেলিয়েন চুয়ামেনির শট অনেকটা বাইরে দিয়ে চলে যায়। অন্যদিকে, একটি পরিবর্তন হয় ফরাসি ব্রিগেডে। থিও হার্নান্দেজ নামেন লুকাস ডিগনের পরিবর্তে। অপরদিকে, স্প্যানিশ ব্রিগেডেও বদল আসে। মিকেল ওয়ারজাবালের পরিবর্তে মাঠে আসেন ফেরান টোরেস। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে, ফেরান টোরেসের হেডার বাইরে চলে যায়। এরপর ফ্রান্স চেষ্টা করেও আর খেলায় ফিরতে পারেনি। শেষপর্যন্ত, ২-০ গোলে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে চলে গেল স্পেন। ২০১০-এর পর আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গিয়েছে স্পেন। সে বছর তারা ট্রফি জিতেছিল। এ বছরও জিততে মরিয়া। ফ্রান্সকে হারানোর পর সে কথা জানিয়ে দিলেন কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। তিনি ২০১০-এর স্মৃতি ফেরাতে চান বলেও বার্তা দিয়েছেন।দলকে নিয়ে ফুয়েন্তে বলেছেন, “দলের কাছে একটাই বার্তা রেখেছিলাম, আমরা বিশ্বের সেরা দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামছি। কিন্তু ওদেরও বুঝিয়ে দিতে হবে যে ওরা বিশ্বের সেরা দলের বিরুদ্ধে খেলছে।”
ফুয়েন্তে আরও বলেন, “ফুটবলারেরা দায়বদ্ধতা, একতা এবং নিজেদের প্রতিভা দেখিয়ে দিয়েছে। কঠিন বিষয়কে সহজ করে দেখিয়েছে। ওদের সেই প্রতিভা এবং খেলার প্রতি সঠিক মানসিকতা রয়েছে। সাজঘরে প্রত্যেককে হাসিখুশি দেখছি। গোটা দেশ আমাদের পাশে আছে। ২০১০-এর সেই মেজাজ ফিরিয়ে আনতে পেরেছি আমরা”। তার কথায়, “যারা ম্যাচে খেলতে পারেনি তারা ম্যাচের পর অনুশীলন করেছে। এতেই দলের চারিত্রিক দৃঢ়তা বোঝা গিয়েছে। দলটা সব সময় অবাক করে আমায়। উন্নতির কোনও সীমা নেই”। ফুয়েন্তের কথায়, “কিন্তু ভালবাসা এবং প্রক্রিয়াই সাফল্যে আসল কারণ। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সবচেয়ে ভাল ফর্মে আছি আমরা”।
এদিকে ম্যাচের পর এমবাপে বলেছেন, “আমার মনে হয় না যে ভাবে খেলতে চেয়েছিলাম সে ভাবে খেলতে পেরেছি। সে কৌশলগতই হোক বা টেকনিক্যালিই হোক বা সার্বিক পারফরম্যান্স। আপনি যদি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সে রকম খেলেন তা হলে কোনও দিন জিততে পারবেন না।” এমবাপে আরও বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম বিপক্ষের অর্ধে গিয়ে আক্রমণ করতে, যাতে ওরা খেলার গতি কমিয়ে দিতে না পারে এবং ম্যাচে ছন্দ খুঁজে না পারায়। ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার বিচারে ওরা আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে থেকেছে। আমরা সেই কাজে পুরোপুরি ব্যর্থ”। ফ্রান্সের অধিনায়কের মতে, মাঝমাঠ তাঁরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। সেখানে শুরু থেকে দাপট দেখিয়েছে স্পেন। ফলে যখন ম্যাচের ছন্দ বা গতি নিয়ন্ত্রণ করার কথা, তখন সেই কাজ ফ্রান্স করতে পারেনি। এমবাপে বলেছেন, “আমরা মাঝমাঠে তিনের বিরুদ্ধে দুই হিসাবে খেলেছি। স্পেনের বিরুদ্ধে সেটা বিরাট সমস্যার। সব মিলিয়ে যদি দেখি, তা হলে সেখানেই আমরা হেরে গিয়েছি। যে ভাবে পাস খেলেছি বা নড়াচড়া করেছি, তা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল জেতার মতো নয় একেবারেই। বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা আমাদের স্বপ্ন ছিল। দেশের মানুষের স্বপ্ন আরও কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম আমরা। সেটা আর হল না।”