স্পোর্টস ডেস্ক : চমক দেখিয়েছিল, কিন্তু সূর্যকুমারকে চমকে দিতে পারেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভয় ধরিয়েও প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে টি২০ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল টিম ইন্ডিয়া। যদিও পুঁচকে ইউএসএ যথেষ্ট বেগই দিল। মুম্বইতে প্রথম ম্যাচেই অচেনা মার্কিন হানায় একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়ে যায় সূর্যকুমার যাদবের দল। সেখান থেকেই একা কুম্ভের মতো দলকে টানেন সূর্যকুমার। ভারত ৯ উইকেটে ১৬১ তুলেছিল। জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৮ উইকেটে থামে ১৩২ রানে। ভারত জয় পায় ২৯ রানে।
ভারতের স্কোর একসময় ৭৭/৬ থেকে সূর্যের ৮৪ রানে ভারতের রান দাঁড়ায় শেষপর্যন্ত ১৬১ রানে। এদিন টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল। শুরুতেই ফিরে যান প্রতিপক্ষের ত্রাস অভিষেক শর্মা, গোল্ডেন ডাকে (১ বলে ০)। ঝড় তোলার চেষ্টা করেছিলেন ইশান কিশান। তবে ১৬ বলে ২০ রানে থামেন তিনি। তিলক বর্মা ফেরেন ১৬ বলে ২৫ করে। শিভম দুবেকে গোল্ডেন ডাকে ড্রেসিংরুমের পথ দেখান শকউইক। ৫ বল আর মাত্র ১ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। পাওয়ার প্লেতে তাদের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ৪৬। সব টি২০ মিলিয়ে ষষ্ঠবার ও বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার পাওয়ার প্লেতে চার উইকেট হারায় ভারত। এরপর রিঙ্কু সিং (৬),হার্দিক পান্ডিয়াও (৫) ফিরে যান অল্প রানেই। ৭৭ রানে ৬ উইকেট হারায় ভারত।
টি২০তে কোনো সহযোগী দেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় টিম ইন্ডিয়া। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন সূর্যকুমার যাদব। ১৮তম ওভারে চার মেরে ৩৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন সূর্য। শেষ দুই ওভারে তিন চার ও তিন ছয়ে ৩৩ রান তোলেন তিনি। ৪৯ বলে ১০ চার ও ৪ ছয়ে ৮৪ রানে অপরাজিত ছিলেন সূর্য। অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেক ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তার। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৮৮ রান করে এই তালিকায় শীর্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল। এছাড়া ১১ বলে ১৪ রান আসে অক্ষর প্যাটেলের ব্যাট থেকে। এরপর ৪ রান করে আউট হন অর্শদীপ। আর ইনিংসের শেষ বলে শূন্য রানে আউট হন বরুণ চক্রবর্তী। ভারত সম্মানজনক ১৬১ রান তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ডানহাতি পেসার শাদলে ফন শকউইক ২৫ রানে শিকার করেন ৪ উইকেট। ম্যাচের সেরা অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বললেন,, “আমি জানতাম এটা ১৮০-১৯০ রানের উইকেট নয়। ১৪০ রানের উইকেট। ১৪ ওভারের পর গৌতি ভাই মাঠে গিয়ে আমাকে বলে, ‘তোকে শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে। তুই থাকলে শেষ দিকে রান হয়ে যাবে।’ গৌতি ভাই আমার উপর ভরসা দেখিয়েছে। সেই ভরসার দাম দিতে পেরেছি।”

ওয়াংখেড়েকে হাতের তালুর মতে চেনেন সূর্য। মুম্বইয়েই খেলে বড় হয়েছেন তিনি। সূর্য দেখিয়েছেন, এই উইকেটে কী ভাবে খেলতে হয়। চেনা উইকেটে খেলার সুবিধার কথা শোনা গেল সূর্যের গলাতেও। তিনি বলেন, “আমি মুম্বইয়ে সারা জীবন খেলেছি। এখানকার আজাদ ময়দান, ক্রস ময়দানে অনেক ম্যাচ খেলেছি। আমি জানি, এখানকার উইকেটে কী ভাবে খেলতে হবে। কী ভাবে মানিয়ে নিতে হবে। ৭৭ রানে ৬ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। আমি জানতাম শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে। আমি শুধু বল গুনছিলাম। যতটা পেরেছি বেশি বল খেলার চেষ্টা করেছি।”
তবে ওয়াংখেড়েতে যে এ রকম উইকেট থাকবে, তা তিনিও আশা করেননি। সূর্য বলেন, “ওয়াংখেড়েতে যে রকম উইকেট থাকে, এটা সে রকম ছিল না। তবে মাঠকর্মীদেরও কিছু করার ছিল না। গত দু’দিন রোদ খুব বেশি ছিল। ওরা যতটা সম্ভব পিচের আর্দ্রতা রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু পিচ একটু বেশি শুকিয়ে গিয়েছিল। তাই বল পড়ে থমকে আসছিল।”
