ওঙ্কার ডেস্ক: আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে চলেছে আগামী ১৫ জানুয়ারি। যৌথভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়া। এক মাসেরও কম সময় ধরে চলা এই টুর্নামেন্ট শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৬টি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে, যাদের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের প্রতিভার ছাপ রেখে যাওয়া।
এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলিকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ভারত রয়েছে গ্রুপ ‘এ’-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ ও আমেরিকা। গ্রুপ ‘বি’-তে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, স্কটল্যান্ড ও আয়োজক জিম্বাবোয়ে। গ্রুপ ‘সি’-তে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড ও জাপান এবং গ্রুপ ‘ডি’-তে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান ও তানজানিয়া। গ্রুপ পর্বের পর সেরা দলগুলি সুপার সিক্সে উঠবে, সেখান থেকে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের লড়াই।
ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। বিগত পাঁচবছরে নিজেদের বিশেষ নাজির রাখা দল গুলির মধ্যে ভারতের যুবদলটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যত্তম সফল দল। এবারের আসরে ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আয়ুষ মাহত্রে। দলের নজরকাড়া নাম ১৪ বছরের ব্যাটিং প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী, যাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রিকেটমহলে চরম কৌতূহল। এছাড়াও দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান একাধিক ব্যাটার ও বোলার, যারা ভারতের শক্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ভারত তাদের অভিযান শুরু করবে ১৫ জানুয়ারি আমেরিকার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে। এরপর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৭ জানুয়ারি এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৪ জানুয়ারি।
অস্ট্রেলিয়া রয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের ভূমিকায়। চারবারের চ্যাম্পিয়ন এই দল বরাবরই অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে শক্তিশালী। পাকিস্তানও নজরে, যাদের দলে রয়েছে আক্রমণাত্মক ব্যাটার ও গতিময় পেস আক্রমণ। ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলগুলিও অঘটনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে আফ্রিকা ও এশিয়ার উদীয়মান দলগুলির মধ্যে তানজানিয়া ও জাপানের পারফরম্যান্স নিয়েও কৌতূহল রয়েছে।
জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ার একাধিক ভেন্যুতে ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে। আফ্রিকার কন্ডিশনে পেস ও বাউন্স বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ট্রফির লড়াই নয়, বরং ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের জায়গা তৈরি করার বড় মঞ্চ। আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ২০২৬ তরুণ প্রতিভার প্রদর্শনীতে পরিণত হতে চলেছে, যেখানে প্রতিটি ম্যাচেই নতুন তারকা উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ক্রিকেটপ্রেমীরা পেতে পারেন ভবিষ্যতের বড় তারকাদের প্রথম ঝলক।