স্পোর্টস রিপোর্টার : ইতিহাস সৃষ্টি করলেন ভারতীয় দাবার তারকা আর প্রজ্ঞানানন্দ । প্রথম ভারতীয় দাবাড়ু হিসেবে গ্র্যান্ড চেস ট্যুর জিতলেন চেন্নাইয়ের এই গ্র্যান্ডমাস্টার। ফাইনালে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ফ্যাবিয়ানো কারুয়ানার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে চলতি বছরের অসাধারণ সাফল্যের দৌড়কে আরও স্মরণীয় করে রাখলেন প্রজ্ঞানানন্দ। ক্লাসিক্যাল গেম শেষ হওয়ার পর ফাইনালের শেষ দিনে কারুয়ানার থেকে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে ছিলেন প্রজ্ঞানানন্দ। তিনি ৩-৯ পিছিয়ে ছিলেন। সেন্ট লুইসে প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ করার পর ভারতীয় তারকা দাবাড়ু স্বীকার করেন, দিনের শুরুতে তাঁর জয়ের খুব বেশি সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি ভাবেননি। হেসে প্রজ্ঞানানন্দ বলেন, ‘সত্যি বলতে, আজ আমার খুব বেশি সুযোগ আছে বলে মনে হয়নি। ছয় পয়েন্টের ঘাটতি অনেক বড়। এমন পরিস্থিতিতে জিততে হলে মূলত যা করেছি, সেটাই করতে হয়।’
তিনি আরও বললেন,’আরও বলেন, ‘এটা কঠিন। প্রতিদিন ফ্যাবির বিরুদ্ধে একটি ম্যাচ জেতা যায় না, সেখানে র্যা পিডে দু’টি ম্যাচ জেতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গত বছরের তুলনায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হয়েছে আমার র্যা পিড ও ব্লিটজ খেলায়। এখন এই দুই ফর্ম্যাটে আমি অনেক ভালো খেলছি বলে মনে হয়। এই ফর্ম্যাটে সেটাই বিশাল উন্নতি।’দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের তালিকায় আরও একটি বড় সাফল্য যোগ করল। বছরের শুরুতে ক্যান্ডিডেটসে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। নরওয়ে চেস জেতার পথে ম্যাগনাস কার্লসেনকে দু’বার হারান ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার। এরপর সেন্ট লুইস র্যা পিড অ্যান্ড ব্লিটজে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি এবং পরে সিনকফিল্ড কাপেও যৌথভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেন। সাম্প্রতিক সাফল্য দ্রুতগতির দাবার ফরম্যাটগুলিতে তাঁর উন্নতির ছবিটিও স্পষ্ট করেছে। প্রজ্ঞানানন্দ মজা করে বলেন, ‘হ্যাঁ, ক্যান্ডিডেটস জিততে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু এই ধরনের একটি টুর্নামেন্ট জেতাও দারুণ সাফল্য। এমন প্রতিযোগিতায় শীর্ষে উঠতে হলে প্রচুর মানসিক দৃঢ়তা দেখাতে হয়। শেষপর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে পেরে আমি খুশি।’