স্পোর্টস ডেস্ক : ফ্রান্স ১, প্যারাগুয়ে ০। নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিলো ফ্রান্স। ম্যাচের ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোলটি করে ‘লে ব্লুজ’-দের জয় এনে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই গোলের সাথে সাথেই গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসিকে ছুঁয়ে ফেলেছেন ফরাসী অধিনায়ক। চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে তিন বা তার অধিক গোল করার রেকর্ড গড়লেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে নকআউটে ৩ টি গোল করেছিলেন। কাতার বিশ্বকাপে করেছিলেন ৫ গোল। যার মধ্যে ছিল ফাইনালে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক। চলতি নর্থ আমেরিকা বিশ্বকাপের নক-আউটে ইতিমধ্যেই ৩ গোল করে ফেলেছেন ফরাসী অধিনায়ক। রাউন্ড অব ৩২-এ সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর রাউন্ড অব – ১৬ তে প্যারাগুয়ের বিপক্ষেও গোল করলেন তিনি।ফিলাডেলফিয়াতে রবিবার পুরো ম্যাচে আধিপত্য দেখালেও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের কাছে বারবার ব্যর্থ হতে হয় ফরাসী স্ট্রাইকারদের। পুরো ম্যাচে ৭৬ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেছিল ফ্রান্স। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো অন্ততপক্ষে চারটি দুর্দান্ত সেভ করেন।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে লেফট উইং থেকে বল নিয়ে প্যারাগুয়ের বক্সে ঢুকে পড়েন ডেজায়ার ডুয়ে । প্যারাগুয়ের তিনজন ডিফেন্ডার একসঙ্গে তাঁকে বাধা দেন। পিছন থেকে ট্যাকল করে ফেলে দেওয়া হয়। প্রথমে রেফারি কোনো সংকেত না দিয়ে খেলা চালিয়ে যেতে বলেন। পরে ভিএআর-এর সাহায্য নিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সহজেই গোল করেন এমবাপ্পে।চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার আগে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও এমবাপে। ম্যাচের পর এমবাপে বলেছেন, ‘‘দরকার হলে আমরা হাত ময়লাও করব। অনেকেই ভেবেছিলেন ফ্রান্স শুধু সুন্দর পাস দেওয়া-নেওয়া করে বা ওয়ান-টু করে আগ্রাসী ফুটবল খেলবে। ভাল ফুটবল খেলবে। আমরা কিন্তু কুৎসিত ফুটবলও খেলতে জানি। দরকার হলে আমরা কঠিন, লড়াকু ফুটবল খেলব। সে ভাবে খেলেই এই ম্যাচটা আমরা জিতেছি। এই ফুটবলটাও আমরা ওদের চেয়ে ভাল খেলেছি।’’
প্যারাগুয়ের আট জন ফুটবলার মিলে রক্ষণ সামলাচ্ছিলেন। ফ্রান্সের ফুটবলারদের তাঁরা বক্সের মধ্যে প্রায় ঢুকতেই দিচ্ছিলেন না। এমবাপেকেও কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙতে না পেরে এক সময় দিদিয়ের দেশঁর মতো শান্ত স্বভাবের কোচও মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই এমবাপেদের শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নিয়েছেন প্যারাগুয়ের ফুটবলারেরা। এ নিয়ে ফ্রান্স অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কেমন হতে পারে। আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি, ফ্রান্স শুধু আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতেই জানে না। এটাই ওদের ফুটবল। ওরা এ ভাবেই খেলে। প্রত্যেক দলই তাদের শক্তি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলে। ফুটবল খেলার কোনও সঠিক বা ভুল পদ্ধতি হয় না। পদ্ধতি একটাই। সেটা হল ম্যাচ জেতা।’’ এমবাপে আরও বলেছেন, ‘‘ওরা আমাদের যে ভাবে খেলে হারাতে চেয়েছিল, আমরা ঠিক সে ভাবে থেকেই ওদের হারিয়ে দিয়েছি।’’
কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের গত বার সেমিফাইনাল খেলা মরক্কো প্রতিপক্ষ হিসাবে এমবাপে পাবেন বন্ধু এবং প্রাক্তন সতীর্থ আশরফ হাকিমিকে। পরের ম্যাচ নিয়ে এমবাপে বলেছেন, ‘‘হাকিমি আমাকে একটা মেসেজ পাঠিয়েছে। এখনও দেখা হয়নি। মরক্কো খুবই ভাল দল। ওদের সঙ্গে খেলা পড়ায় আমি খুশি। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামব আমরা। নিজেদের উজাড় করে দেব। আশা করি আমরা বিশ্বকাপের দিকে আরও এগিয়ে যেতে পারব