ওঙ্কার ডেস্ক: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের শাসক দলের অস্বস্তি বাড়ল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শনিবার প্রকাশিত হয়েছে অযোগ্য বা দাগি প্রার্থীদের তালিকা। তাতে নাম জড়িয়েছে একাধিক তৃণমূল নেতানেত্রীর। হুগলির খানাকুলের তৃণমূল নেত্রী সাহিনা সুলতানার নাম উঠে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে তোলপাড়।
সাহিনা সুলতানা শুধু একজন সাধারণ নেত্রী নন। তিনি পরপর তিনবার হুগলি জেলা পরিষদের সদস্যা। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময়েই তিনি এসএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক পদে চাকরি পান। প্রথমে বাঁকুড়ার এক স্কুলে, পরে খানাকুলের রাজহাটি-বন্দর হাইস্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা পরিষদের দায়িত্ব সামলাতে ব্যস্ত থাকার কারণে স্কুলে তাঁর উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে।
বিতর্ক এখানেই শেষ নয়। সাহিনার ভাই মইনুল হক খানাকুলের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। সদ্য প্রকাশিত তালিকায় নাম এসেছে মইনুল হকের স্ত্রী নমিতা আদকেরও। ফলে বিরোধীরা সরব হয়ে বলছে, “অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রমাণ করছে, নিয়োগ দুর্নীতির শিকড় প্রশাসন থেকে রাজনীতির অন্দরে কতটা গভীরভাবে ছড়িয়েছে।”
প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর নাম জড়ানোর পর থেকেই বিরোধীরা শাসক দলের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছিল। এবার সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত তালিকায় নতুন নাম উঠে আসায় সেই সুর আরও তীব্র হয়েছে। বিজেপি নেতারা শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদার একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, তৃণমূলের নেতানেত্রীদের আশ্রয়েই নিয়োগ দুর্নীতির জাল বিস্তৃত হয়েছে।
শাসক দল এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এসএসসি মামলার সাম্প্রতিক প্রকাশিত তালিকা শাসক দলের জন্য বড়সড় অস্বস্তির কারণ হতে চলেছে।
