বিপ্লব দাশ : চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকাদের হতাশার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কিন্তু তাদের দাবির সঙ্গে আবেগটাও জড়িয়ে আছে বেশ খানিকাটা। যা তাঁদের নির্ণায়ক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মাঝেমাঝে ‘ডিরেলড’ করাচ্ছে। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের এক্তিয়ারে। এর কার্যকরণ ও পর্যবেক্ষণ যে শীর্ষ আদালতের হাতে সেটা ভুলে গেলে চলবে না। এতে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর কী কিছু করার থাকতে পারে ! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতেই হবে। নাহলে সমূলে ক্ষতির আশঙ্কা এই সত্যটাকে এড়িয়ে গেলে চলবে না।
এটা ঠিক সাত-আট বছর সরকারি চাকরি করার পর হঠাৎ যদি তাদের সেই রুজিরুটি হারাতে হয় তার চেয়ে বেদনাদায়ক কিছু হতে পারে না। অনেকের নিশ্চয়ই এর উপর গোটা পরিবার দাঁড়িয়ে আছে। অনেকের নানান সমস্যা, যা সরকারেরও বোঝার নয়। সব মিলিয়ে চাকরিহারাদের মধ্যে একটা প্রবল হতাশা জাগবে, এটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কথা হল, এই পরিস্থিতিতে রিভিউ পিটিশন করা ছাড়া রাজ্য সরকারের আর কীই বা করার আছে। সেটা অবশ্য করাও হচ্ছে। পিটিশনের খসড়াও দেখেছেন চাকরিহারারা। বয়ানে সন্তুষ্টও তাঁরা। কিন্তু ৩১ তারিখের মধ্যে নতুন করে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি না করে সরকারের উপায় নেই। এটা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি যা বিজ্ঞপ্তিতে থাকবে, তার মধ্যে কিছু ইংগিত দেখা যাচ্ছে। হয়তো সরকারও না বলতে পারা কিছু কথা কৌশলে বলতে চাইছেন। এটাই বুঝতে হবে চাকরিহারাদের। বোঝাপড়ার মধ্যেই থাকে সমাধানের বীজ। মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, পুনরায় চাকরিপ্রার্থীদের “বয়সের ঊর্দ্ধসীমা থাকছে না এবং যোগ্যতার সুফল পাওয়া যাবে”। আমার মনে হয়, এখানেই চাকরিহারাদের সমাধান লুকিয়ে আছে। লড়াইটা যেহেতু আইনগত, এবং তা আদালতের এক্তিয়ারে, তাই প্রশাসনিক ভাবে অনেক কথা বলা সম্ভব হয় না। রাজনৈতিক ভাবে তো নই। তাই দাবিদাওয়া বজায় রাখলেও, আইনকে স্বীকার করে নিতেই হয়। এমন একটা মানবিক সমস্যা কখনোই রাজনৈতিক খেওখেয়িতে যেন পথভ্রষ্ট না হয় সেদিকে সকলের নজর রাখা উচিত।
