
ওঙ্কার ডেস্ক : চাকরি দুর্নীতির দৃষ্টান্ত শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়। এর আগেও বাম আমলে দুর্নীতির অভিযোগে ত্রিপুরায় ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষকের চাকরি গিয়েছিল।
ত্রিপুরার বাম আমলে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সিপিএমের মানিক সরকার। তখনকার বামফ্রন্ট সরকার ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দুই দফা স্কুল শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক পদে নিয়োগ করা হয়েছিল ১০৩২৩ জনকে।কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নিউক্লিয় মামলা হয় ত্রিপুরা হাইকোর্টে। তারপর আগরতলার উচ্চ আদালত পুরো প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে গিয়েছিল মানিক সরকার। কিন্তু ২০১৭ সালে সুপ্রিমকোর্ট ও সমস্ত প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। ঘটনা স্বরূপ ত্রিপুরায় তার পরের বছরই ছিল বিধানসভা ভোট। সেই ভোটেই হেরে গিয়েছিলেন মানিক সরকার।
সুত্র মারফত জানা যাচ্ছে ত্রিপুরার মোট জনসংখ্যা কম-বেশি ৪০ লক্ষ। সেই অনুপাতে ১০,৩২৩ সংখ্যাটি সারা রাজ্যেই অনেক বেশি প্রভাব ফেলেছিল। সেখানে বাংলার জনসংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি। সেই নিরিখে ২৬ হাজার সংখ্যাটি সারা বাংলায় কতটা এবং কী রকম প্রভাব ফেলবে, তা-ও বিচার্য।
ত্রিপুরা বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বাংলা আর ত্রিপুরার মাটি আলাদা। তবে মৌলিক একটা মিল রয়েছে। তা হল, দুই রাজ্যেই দীর্ঘ বামশাসনের পরে মানুষ পরিবর্তন করেছিলেন। কিন্তু তৃণমূল যে ভাবে দুর্নীতি করেছে, তাতে মানুষের ক্ষোভ হিমালয় সমান জায়গায় পৌঁছেছে। চাকরি বাতিল-সহ যা যা হচ্ছে, তাতে সামনের ভোটে তাদের বিদায় আসন্ন।’’
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন আদালতের নির্দেশ মেনেই তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ করা হবে। সেই সঙ্গে তিনি এটাও বলেন শিক্ষা দুর্নীতি মামলায় তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী অর্থাৎ পার্থ চট্টোপাধ্যায় কে জেলে রেখে দেওয়া হয়েছে অনেক দিন হয়ে গেছে একজনের অপরাধে কত জনের শাস্তি হবে?
২০২৪ সালে এপ্রিল মাসে কলকাতা হাইকোর্ট ২৬ হাজার প্রার্থীদের চাকরি বাতিল করা হয়েছিল। তবে রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার আপিল করেছিল। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২৬০০০ শিক্ষক ও অশিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতির সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চ এই মামলার রায় জানিয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক মহলের আলোচনায় উঠে আসছে ত্রিপুরার প্রসঙ্গ । কারণ, বছর ঘুরলেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট।