নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠে আসছে শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে। এবার চাকরি বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক গোপন চিঠির ছবি পোস্ট করে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে বিপুল অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুললেন তিনি।
সূত্রের খবর, ভাইরাল হওয়া চিঠির সত্যতা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক স্তরে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও সরকারি মহল বলছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ হবে। WBSEDCL-এর স্টেশন ম্যানেজারের সই ও সিল-সহ ভাইরাল চিরকুট রাজ্যের প্রশাসন থেকে রাজনৈতিক মহল সকলের মধ্যেই তীব্র জল্পনা তৈরি করেছে। তদন্তে যদি জালিয়াতির প্রমাণ মেলে, তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিদ্যুৎ দফতর।
ভাইরাল হওয়া ওই চিঠিতে সুকান্তবাবুর দাবি, কুমারগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মফিজউদ্দিন মিঁয়ার সুপারিশে ৬ লক্ষ ৫২ হাজার টাকার বিনিময়ে WBSEDCL এর (West Bengal State Electricity Distribution Company Limited) স্টাফ নিয়োগ হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিজেপি নেতা সুশীল মার্ডির বিরুদ্ধে মিথ্যা বিদ্যুৎ চুরির মামলাও সাজানো হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। এই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে, বিশেষ করে কুমারগঞ্জ এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য। শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় প্রশাসনিক মহলও।
এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন WBSEDCL-এর কুমারগঞ্জ স্টেশন ম্যানেজার নাজিমুল হক।তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘এই চিঠিটি ভুয়ো। আমার সই ও অফিসের সিল জাল করে কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন নোট তৈরি করেছে। কোনও সুপারিশ পাইনি, কোনও নিয়োগও হয়নি।’’ চিঠি ভাইরাল হওয়ার পর তিনি আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, চিঠিতে নাম জড়ানো তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক মফিজউদ্দিন মিঁয়া সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে বিজেপি মানুষের সমর্থন হারাচ্ছে বলেই এইভাবে নাম খারাপ করার চেষ্টা করছে।’’ তৃণমূল বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডলও পুরো বিষয়টিকে বিজেপির চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, ‘‘ভুয়ো চিঠি দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বিজেপি। আসলে জেলায় বিজেপির সংগঠন ভেঙে পড়েছে বলেই এমন অপপ্রচার।’’
তবে সুকান্ত মজুমদার তাঁর অবস্থানে অনড়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘‘স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সুপারিশে কীভাবে বিরোধী কর্মীদের বিদ্যুৎ চুরির মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে আর চাকরির নামে টাকা তোলা হচ্ছে, তা জনগণের সামনে আনার সময় এসেছে। যদি ব্যবস্থা না হয়, আমরা কঠোর আইনি পথে যাব।’’
