ওঙ্কার ডেস্ক: ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত মামলাগুলিকে অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে দেশের উচ্চ আদালতগুলিকে। বিশেষ করে জামিন সংক্রান্ত আবেদন যেন অযথা দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে না রাখা হয়, সে বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবের বেঞ্চ এক মামলার শুনানিতে জানায়, কোনও নাগরিকের স্বাধীনতার প্রশ্নে আদালতের গাফিলতি বা অযৌক্তিক বিলম্ব একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। আদালতের মতে, জামিন না দেওয়ার ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তির মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়, যা সংবিধানের ২১ নম্বর ধারার পরিপন্থী।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালের এক মামলায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি বোম্বে হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বছর ঘুরে গেলেও শুনানির কাজ এগোয়নি। ২০২৫ সালেও আবেদন মুলতুবি থাকার পর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসে। শীর্ষ আদালত এ ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, এই ধরনের অবহেলা কোনওভাবেই চলতে পারে না। আদালতের মন্তব্য, জামিন বা অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন হলে দুই মাসের মধ্যে তা শুনানি শেষ করে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। প্রয়োজনে আদালত অতিরিক্ত বেঞ্চ বসাবে, কিন্তু নাগরিকের স্বাধীনতার প্রশ্নে দেরি করার অধিকার আদালতের নেই।
সুপ্রিম কোর্ট এ-ও বলেছে, যদি আবেদনকারী পক্ষ বা মামলাকারীর পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব না করা হয়, তবে আদালতের পক্ষে মামলাটি বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা অসাংবিধানিক। এর ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তি শুধু আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতায় পড়ে যান না, তাঁর পরিবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে ভোগে। শীর্ষ আদালতের মতে, ন্যায়বিচার দেরি হলে তা কার্যত অবিচারের শামিল।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় উচ্চ আদালতগুলির উপর সরাসরি চাপ তৈরি করবে। এখন থেকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মামলায় বিচারপ্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে।
