ওঙ্কার ডেস্ক : এসএসসি মামলায় নাটকীয় মোড় ! অযোগ্য চাকরিপ্রাপকদের নামের তালিকা সাত দিনের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে, এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আর এই নির্দেশ উঠে এল এমন এক পরিস্থিতি থেকে যেখানে স্কুল সার্ভিস কমিশনের অবস্থান কার্যত বিভ্রান্তিকর। এই প্রসঙ্গে আইনজীবী চন্দ্রশেখর বাগের মন্তব্য তুলে ধরতে হয়, যা হল- “ঝুলি থেকে অবশেষে বেড়াল বেরুলো”।
মূলত এই দাগী বা অযোগ্য চাকরিপ্রাপকদের তালিকা না মেলায় এসএসসি মামলায় একের পর এক অস্থিরতা চলেছে গত কয়েক বছর ধরে। হাইকোর্টের এই মামলার প্রথম বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলীও বহুবার এই তালিকা চেয়েছেন যাতে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর মধ্যে যোগ্যরা বঞ্চনার শিকার না হন। কিন্তু তিনিও এই তালিকা বের করতে সফল হননি। মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে, সেখানেও এসএসসির অবস্থান একই ছিল। অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশের বিষয়টি তারা নানাভাবে চেপে রাখা হয়েছে। কার্যত এই তালিকা প্রকাশ না করার এক অঘোষিত সিদ্ধান্ত কাজ করেছিল এতদিন।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা চলাকালীন বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চের সামনে এসএসসির কৌঁশুলি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যে কারণেই হোক চলতি অবস্থান বজায় রাখতে পারেননি। দুই বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করতে বলেছিল কলকাতা হাই কোর্ট। আমরা সেই নির্দেশে হস্তক্ষেপ করিনি। তার পরেও কেন তালিকা প্রকাশ হল না ?” তখন এসএসসির আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে দাবি করেন, ওই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পরে ওই সওয়ালের জন্য আদালতের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। জানান, অযোগ্যদের নামের তালিকা প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
এসএসসির আইনজীবীর দু’ ধরনের কথা শুনে বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার মন্তব্য, “একটু আগেই বললেন প্রকাশ করেছি। এখন অবস্থান বদল করছেন। শীর্ষ আদালতে ভুল বলে দুঃখপ্রকাশ করছেন। আপনাদের আমরা বিশ্বাস করেছিলাম।” আদালতের কাছে ভর্ৎসিত হওয়ার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতকে বলেন, সাত দিন সময় দিলে তারা তালিকা প্রকাশ করে দেবে। এসএসসির এই বক্তব্য আদালত নথিভুক্ত করে। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এসএসসিকে সাত দিন সময় দেওয়া হল। এই সময়ের মধ্যে তালিকা প্রকাশ না-হলে মামলাকারীরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন।
এসএসসি মামলার এই নাটকীয় মোড় নিয়ে এখন নানান জল্পনা। যে তালিকা প্রকাশ্যে না আসার জন্য এসএসসি এতদিন ধরে গোঁ ধরে ছিল, এদিন হঠাৎ এমন কি হল, যাতে সাত দিনের মধ্যে অযোগ্য চাকরিপ্রাপ্তদের তালিকা জমা দেওয়ার কথা বললো। এবং এটা দেখা গেল এমন এক দিন যেদিন এসএসসির আইনজীবী হিসেবে একমাত্র উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি একবার বললেন, তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, পরক্ষণে তা ভুল বলেছেন বলে আদালতের কাছে ক্ষমা চাইলেন। আদালতের ভর্ৎসনা শুনতে হল। এটা কি এসএসসির সঙ্গে শুধুই সমন্বয়ের অভাব, নাকি এর পিছনে কোনো গূঢ় রাজনৈতিক কারণ রয়েছে, এনিয়ে যথারীতি শোরগোল শোনা যাচ্ছে। কারণ, কল্যাণ ব্যানার্জীর মতো একজন দুঁদে আইনজীবী এমন ভুল করবেন, এমনটা মানতে পারছে না ওয়াকিবহাল মহল। এর ফলে অনেকেই আবার টেনে আনছেন সংসদে তৃণমূলের সাম্প্রতিক রদবদলের কথা। অসুস্থতার কারণে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এনে সংসদের দলনেতা করা হল একই সঙ্গে সংসদে দলে চীফ হুইপ থেকে সরানো হল কল্যাণকে। এর কী কোনো প্রভাব পড়ল আজকের শুনানিতে ! অনেক প্রশ্ন, অনেক অঙ্ক। আপাতত উত্তর একটাই, সত্যি কি এসএসসি এবার অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে ? এখানেও অনেক প্রশ্ন। অপেক্ষা আর সাতদিন।
