নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন বাতিলের আর্জিতে আপাতত সায় দিল না সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মিলন প্রার্থী হিসেবেই ভোটে লড়বেন এবং ভোট প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বুধবার, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে। মঙ্গলবার নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ, তাই ভোটের দিন পর্যন্ত কেন্দ্রেই থাকতে পারবেন তিনি।
২০০৭ সালের একটি পুরনো খুনের মামলায় পুলিশ মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে। পরে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। আদালতের নির্দেশ ছিল, নির্বাচন মিটে গেলেই হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে তাঁকে। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার।
রাজ্যের যুক্তি ছিল, শুধুমাত্র ভোটে দাঁড়িয়েছেন বলেই কোনও অভিযুক্তকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে আইন যেভাবে প্রযোজ্য, প্রার্থীর ক্ষেত্রেও তাই হওয়া উচিত।
গত সপ্তাহেই রাজ্যের তরফে দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবারই মামলাটি শোনার আর্জি জানিয়েছিলেন রাজ্যের আইনজীবী। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তখন জানায়, তাড়াহুড়ো করে শুনানি সম্ভব নয়, সোমবার শুনানি হবে। সোমবার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, “ওঁকে ভোটে লড়তে দিন। ভোট যেন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে হয়।”
এই গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই দাবি করেছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, এতদিন ধরে পুরনো মামলায় কোনও পদক্ষেপ না হলেও, কংগ্রেস প্রার্থী ঘোষণা করার পরই পুলিশ সক্রিয় হয়েছে। এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতে জানান, মিলনের বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রয়েছে, তা মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরই সরকারের নজরে এসেছে। এতদিন মামলাটি কোন পর্যায়ে ছিল, সে বিষয়ে বর্তমান সরকার অবগত ছিল না। কেন এতদিন পুলিশ ওয়ারেন্ট কার্যকর করেনি, তারও কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি রাজ্য। বরং আগের সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকেই দায়ী করা হয়েছে।
এই বক্তব্য শুনে সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা প্রশ্ন তোলে, যদি এমনই হয়, তাহলে যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিক এতদিন মামলা ফেলে রেখেছেন, ওয়ারেন্ট কার্যকর করেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। রাজ্যের আইনজীবীও এই প্রস্তাবে সম্মতি জানান।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর আপাতত স্বস্তিতে কংগ্রেস শিবির। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “প্রার্থী হওয়ার পরেই মিথ্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। নন্দীগ্রামের ঐতিহাসিক জমি আন্দোলনে বিজেপির অনেক নেতা জড়িত ছিলেন, তাঁদের কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এর পিছনে কী উদ্দেশ্য, তা সবার জানা। মিথ্যা মামলা দিয়ে সত্যকে চাপা দেওয়া যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ থেকেই স্পষ্ট সরকার ভয় পেয়েছে। নিরপেক্ষ ভোট হচ্ছে না। আমরা গণনাকেন্দ্র হলদিয়ায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”