নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম-রেজিনগর: ভোট দিয়েই বড় জয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দাবি করেছিলেন, নন্দীগ্রামে এবার রেকর্ড ব্যবধানে জিতবেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। ২০১৬ সালে তাঁর ৮২ হাজার ভোটে জেতার রেকর্ডও ছাপিয়ে যাবে এবার। ভোট শান্তিপূর্ণ হচ্ছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
কিন্তু বেলা গড়াতেই ছবিটা বদলালো। ভোটের নামে প্রহসন চলছে বলে অভিযোগ তুলল বিরোধীরা।
কমিশনের তথ্য বলছে, বিকেল ৫টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ভোট পড়েছে ৭৯.৩৯ শতাংশ। রেজিনগরে প্রায় ৭৮.৪২ শতাংশ। কোথাও বড় গন্ডগোলের খবর নেই। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, মাঠ ফাঁকা করে গোল দিচ্ছে শাসকদল।
সকাল থেকেই দফায় দফায় অভিযোগ তুলেছেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের এজেন্টদের সব বুথ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, অবাধে ছাপ্পা চলছে। সকালে ব্লক সভাপতি আশরাফুল তুল্লাকে পুলিশ আটক করেছে বলেও অভিযোগ কংগ্রেসের। সোনাচূড়ার ভাঙাবেড়া ২৮৫, ২৮৬ নম্বর বুথে এজেন্ট বসানো নিয়ে অশান্তি হয়েছে। মিলন ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে ‘জয় শ্রীরাম’ এবং ‘চোর-চোর’ স্লোগান শোনানো হয়। যদিও অভিযোগ শুনে বিজেপির পাল্টা কটাক্ষ, “প্লেয়ারই নেই, খেলবেন কী?”
কালীচরণপুরের ২৪১, ২৪২ নম্বর বুথে ভোটার স্লিপ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মহিলারা। কেন্দামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৩৪ নম্বর বুথে তৃণমূল নেতার দোকান ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। এমতাবস্থায় আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী সমাজ মাধ্যমে কটাক্ষ করে লিখেছেন, “অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।”
এই পরিস্থিতিতে রেজিনগরে বিজেপির বিরুদ্ধে বুথ দখলের অভিযোগে একজোট মমতা তৃণমূল, কংগ্রেস এবং সিপিএম। সকালে ভোট দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশকে নিশানা করেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। পরে বিধিভঙ্গ ও পুলিশকে হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার হন তিনি।
দুপুরে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম এবং ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখ অভিযোগ করেন, বেশিরভাগ বুথ থেকে তাঁদের এজেন্টদের বার করে দেওয়া হয়েছে। রবিউল অবিলম্বে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। কংগ্রেস প্রার্থী থানার সামনে ধর্নায় বসেন, জেলাশাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন অধীর চৌধুরী।
ভোট শেষের মুখে হুমায়ুন-পুত্র গোলাম নবি আজাদের মন্তব্য, “ফলাফল কী হবে সবাই জেনে গিয়েছি।” তাই ৯ অক্টোবর গণনাকেন্দ্রে যাবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
এদিকে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, রেজিনগরে সংখ্যালঘুরাও এবার উন্নয়ন চান, আর নন্দীগ্রামে গতবারের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি মার্জিনে জিতবে বিজেপি।