ওঙ্কার ডেস্ক: আবারও কি গৃহযুদ্ধ বাঁধবে ভারতের প্রতিবেশী দেশ তালিবান শাষিত আফগানিস্তানে, এই প্রশ্ন ফের মাথাচারা দিয়ে উঠছে সেদেশের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লা আখুন্দাজাদার প্রকাশিত একটি গোপনীয় অডিও ক্লিপ প্রকাশিত হওয়ার পর। আফগানিস্তানের শাসকগোষ্ঠী তালিবানের শীর্ষ নেতৃত্বে গভীর মতানৈক্য ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত মিলল একটি ফাঁস হয় অডিও ক্লিপে। ওই অডিওতে তালিবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিজেই স্বীকার করেছেন, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ক্রমে এমন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে যা ভবিষ্যতে ইসলামিক আমিরশাহিকে অস্তিত্বকেই বিপদের মুখে ফেলবে।
অডিও ক্লিপে শোনা যায়, নেতৃত্বের ভিতরে একাধিক শক্তিশালী গোষ্ঠীর মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। একদিকে রয়েছে কান্দাহার-কেন্দ্রিক কঠোরপন্থী গোষ্ঠী, যারা ধর্মীয় অনুশাসনের প্রশ্নে কোনও রকম আপসের পক্ষপাতী নয় এবং দেশের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে আন্তর্জাতিক সমাজ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকার নীতিতে বিশ্বাসী। অন্যদিকে রয়েছে কাবুল-কেন্দ্রিক তুলনামূলক বাস্তববাদী অংশ, যাদের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানির মতো প্রভাবশালী নেতারা রয়েছেন। এই গোষ্ঠী সীমিত হলেও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক স্বস্তি এবং প্রশাসনিক কিছু সংস্কারের পক্ষে মত দিচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
অডিওতে আখুন্দজাদাকে বলতে শোনা যায়, নেতৃত্বের মধ্যে যদি ঐক্য বজায় না থাকে, তা হলে সংগঠনের ভেতর থেকেই বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, শুধুমাত্র নীতিগত মতভেদ নয়, ক্ষমতার কেন্দ্র নিয়েও টানাপোড়েন চলছে। বিশেষ করে গত বছর ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের নির্দেশ ঘিরে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা এই দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে এনে দেয়। কান্দাহার থেকে দেওয়া নির্দেশ কার্যকর না হওয়া এবং পরে পরিষেবা ফের চালু হওয়া অনেকের কাছেই শাসনব্যবস্থার ভিতরের ফাটলের ইঙ্গিত হিসেবে ধরা পড়ে।
তালিবান নেতৃত্ব প্রকাশ্যে বরাবরই অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কথা অস্বীকার করে এসেছে। তবে এই ফাঁস হওয়া অডিও সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চাপা থাকা অসন্তোষ ও মতবিরোধ এখন আর পুরোপুরি গোপন রাখা যাচ্ছে না। দেশের অর্থনৈতিক সংকট, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব এবং নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপ এই মতানৈক্য আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের জীবনেও। যদি নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়, তবে প্রশাসনিক অচলাবস্থা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলও বিষয়টির দিকে সতর্ক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কারণ তালিবানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নড়বড়ে হলে তার প্রভাব শুধু আফগানিস্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও রাজনীতিতেও এর প্রতিফলন ঘটতে পারে।
