ওঙ্কার ডেস্ক: আমেরিকার শুল্ক নীতি নিয়ে ফের তোলপাড় বিশ্ব বাজার। ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের পরে এ বার তামা এবং ওষুধের উপর নজর কড়া করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) হোয়াইট হাউসে ক্যাবিনেট বৈঠকের পর নতুন করে আমদানি শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকায় আমদানি হওয়া তামার উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসতে চলেছে। এ ছাড়াও, ওষুধের উপর শুল্কের হার ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
গত ফেব্রুয়ারিতেই ট্রাম্প প্রশাসন অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতজাত পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে তামা ও ওষুধের উপর শুল্ক ঘোষণা ও সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে নয়াদিল্লিতে। কারণ, ভারতের ওষুধ শিল্পের সবচেয়ে বড় বিদেশি বাজার আমেরিকা। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে ভারত আমেরিকায় প্রায় ২৭৯০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের ওষুধ রফতানি করেছে। একইসঙ্গে ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ৩৬ কোটি ডলারের তামা ও তামাজাত পণ্যও গিয়েছে আমেরিকার বাজারে। ফলে এই নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর হলে ভারতে রফতানিকারক সংস্থাগুলির উপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যদিও এখনই ওষুধে শুল্ক চাপাচ্ছে না ওয়াশিংটন, তবে শীঘ্রই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন বাণিজ্যসচিব হওয়ার্ড লুটনিক জানিয়েছেন, জুলাই মাসের শেষ বা ১ অগস্ট থেকে তামার উপর নতুন শুল্ক কার্যকর হতে পারে। ট্রাম্প নিজেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, ‘‘আমরা তামার উপর শুল্ক আরোপ করছি। এই শুল্ক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে।’’ ওষুধ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘‘এখনই শুল্ক আরোপ করছি না। সংশ্লিষ্ট ওষুধ রফতানিকারক দেশগুলিকে এক থেকে দেড় বছর সময় দেওয়া হবে। তারপর শুল্ক আরোপ কার্যকর করা হবে।’’ ফলে ওষুধ উৎপাদক দেশগুলির জন্য একপ্রকার সতর্ক সংকেত দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বিতর্কিত ঘোষণা। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘ব্রিকস্’ জোটের সদস্য দেশগুলিকে ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘আমেরিকার ক্ষতি করার লক্ষ্যেই ‘ব্রিকস্’ তৈরি হয়েছে। তারা যদি সেই খেলা চালিয়ে যেতে চায়, আমিও প্রস্তুত। কেউ যদি ডলারকে চ্যালেঞ্জ করে, তবে তাদের দাম চোকাতেই হবে।’’ ট্রাম্পের এই ঘোষণায় নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষত, ভারত যেহেতু ব্রিকস্ জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, তাই একদিকে তামা ও ওষুধ, অন্যদিকে ব্রিকস্ শুল্কের হুমকি সব মিলিয়ে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক ও বাণিজ্য মহলে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
