ওঙ্কার ডেস্ক: অসমে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দ্রুতগামী রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় পাঁচ বন্য হাতির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে অসমের হোজাই জেলার লামডিং–হোজাই রেলপথের একটি জঙ্গলে ঘেরা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও রেল সূত্রের খবর অনুযায়ী, গভীর রাতে একটি হাতির দল রেললাইন পার হওয়ার সময় দ্রুতগতিতে আসা রাজধানী এক্সপ্রেস তাদের ধাক্কা মারে। সংঘর্ষ এতটাই তীব্র ছিল যে ঘটনাস্থলেই পাঁচটি হাতির মৃত্যু হয় এবং একটি হাতি শাবক গুরতর আহত হয়। ট্রেনটির ইঞ্জিন সহ কয়েকটি কোচ লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর রেললাইনের দু’পাশে ছড়িয়ে পড়ে মৃত হাতিদের দেহ। বনদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পাঁচট হাতির মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক হাতির পাশাপাশি একটি কচি হাতিও আহত বলে জানা গেছে। আহত হাতিকে দ্রুত বনদপ্তরের চিকিৎসক দল উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এই ঘটনার ফলে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
ট্রেনটিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে কেউ হতাহত হননি বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে আচমকা ধাক্কা ও লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই রেল ও প্রশাসনের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত কোচগুলি সরিয়ে নেওয়া, রেললাইন মেরামত এবং হাতিদের দেহ অপসারণের কাজে একাধিক ঘণ্টা সময় লাগে। এই কারণে ওই রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলটি হাতিদের একটি পরিচিত চলাচলের করিডরের মধ্যেই পড়ে। অতীতে এই এলাকায় একাধিকবার ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবুও দ্রুতগামী ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ, সতর্কতামূলক সাইনাল বা পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের এলাকায় ট্রেনের গতি কমানো, আধুনিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং হাতির চলাচল নজরে রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ও অবকাঠামো পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে প্রশাসনের তরফ থেকে।
