ওঙ্কার ডেস্ক:রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে রওনা দেওয়ার কথা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন তিনি। আর সেই ভাষণেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গ উঠতে পারে বলে ঢাকার কূটনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রসংঘে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়টি তুলে ধরবেন তারেক। ভারতকে দেওয়া ঢাকার অনুরোধ এখনও কার্যকর হয়নি—এই বার্তাই আন্তর্জাতিক মহলের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে বাংলাদেশ সরকার। বিএনপির এক শীর্ষ নেতার বক্তব্যেও সেই ইঙ্গিত মিলেছে। তারেকের এবারের মার্কিন সফর প্রায় সাত দিনের। ২২ সেপ্টেম্বর তাঁর নিউইয়র্কে পৌঁছনোর কথা। সেখানে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাষ্ট্রসংঘের এই সফরের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। তারেক রহমানের প্রয়াত বাবা জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন। তাঁর মা খালেদা জিয়াও একই মঞ্চে বাংলাদেশের হয়ে বক্তব্য রেখেছেন। এবার সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যাচ্ছেন তারেক।তারেকের বিদেশ সফরের আগেই হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতি ফের সরগরম। শুক্রবার ঢাকা-সহ দেশের একাধিক এলাকায় মিছিল করেছে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল। মিছিল থেকে সরাসরি ভারতকে নিশানা করা হয়। হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবিতে স্লোগান ওঠে। তাঁদের বার্তা ছিল, ভারত যদি সত্যিই বাংলাদেশের বন্ধু হয়, তাহলে অভিযুক্তদের ফেরত দিতে হবে।
মিছিলকারীদের মুখে শোনা যায়, ‘না দিল্লি, না পিন্ডি, ঢাকা ঢাকা’ স্লোগানও। ‘পিন্ডি’ বলতে পাকিস্তানের সেনা নিয়ন্ত্রিত শহর রাওয়ালপিন্ডিকে বোঝানো হয়েছে। এর পাশাপাশি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানও দেওয়া হয়। বিএনপি সরকার তাদের বিদেশ নীতিতে এই নীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ছাত্রদলের মিছিল থেকে আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেওয়া হয়। দলটির নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের দাবিতে স্লোগান ওঠে। রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে এই কর্মসূচি নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।