দলের ভাঙ্গনের পর এখন ঘাসফুলের প্রতীক নিয়ে শুরু হয়েছে টানাটানি। জোড়াফুল আসলে কাদের হাতে থাকবে, তা ঠিক করতে আজ, শনিবার দিল্লিতে ঋত শিবির ও কালীঘাট শিবিরকে ডেকেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বৈঠকে দুই পক্ষই নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছে। ফলে শেষপর্যন্ত পর্যালোচনা করে জোড়াফুল প্রতীক কাদের দখলে থাকবে সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
আগামী ৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর। এমতাবস্থায় আসন উপনির্বাচনে জোড়া ফুলের হয়ে কোন শিবিরের প্রার্থী লড়বে তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। এমতাবস্থায় আজ দিল্লিতে বৈঠক শেষ করে কালীঘাট শিবিরকে একহাত নেন ঋতব্রত। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘‘ভিতরে যা বলেছি তা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলব না। তবে এটুকু বলতে পারি, না খাতা না বহি, জো মমতা ব্যানার্জি কহে ওহি সহি— এ ভাবে কোনও গণতান্ত্রিক দল চলতে পারে না। তৃণমূল কোনও পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। এটা তৃণমূলস্তরের কর্মীদের পার্টি।’
প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির যে দৃশ্য রাজ্য দেখেছে তা পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে নতুন না হলেও বেশ অদ্ভুত। ৪মে ফলপ্রকাশের পরেই ভেঙে টুকরো হয় ঘাসফুল শিবির। এক টুকরো পরে থাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এক টুকরো সরে যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আর এনসিপিআই নাম নিয়ে কাকলির নেতৃত্বে নতুন একটি দল গঠন করে ফেলেন তৃণমূল সাংসদরা। এমতাবস্থায় জোড়াফুল প্রতীক চিহ্নের দখল কাদের পক্ষে থাকবে তা তুমুল টানাপোড়েন চলছে ঋত শিবির ও কালীঘাট শিবিরের মধ্যে। যদিও মমতাপন্থীদের বক্তব্য, দল তৈরি করেছেন মমতা। তাঁর নামকে সামনে রেখেই প্রার্থীরা ভোটে লড়েছেন এবং জয়ী হয়েছেন। তাই তাঁকে অস্বীকার করা বেআইনি। এমতাবস্থায় শেষ হাসি কারা হাসবে, সেই দিকেই থাকবে নজর।