ওঙ্কার ডেস্ক: বিভিন্ন অপরাধে সাজা প্রাপ্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন তাঁরা। কিন্তু সংশোধনাগার থেকে সেই ৯১ জন আসামিকে মুক্তি দিল তেলেঙ্গানা কারা ও সংশোধন পরিষেবা বিভাগ। তাঁদের জন্য কর্মসংস্থান পুনর্বাসনেরও বন্দোবস্ত করা হয়েছে সরকারের তরফে। রিপোর্ট অনুসারে, মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের মধ্যে ৮৫ জন পুরুষ এবং ছয় জন মহিলা। সকলেই সরকারের নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসারে মুক্তি পাওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন।
তেলেঙ্গানার কারা ও সংশোধন পরিষেবা বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সৌম্য মিশ্র বলেন, এটি কেবল বন্দিদের মুক্তি নয়, বরং দায়িত্ব, মর্যাদা এবং আশার ভিত্তিতে জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। তিনি বলেন, সংশোধন ব্যবস্থা প্রতিটি ব্যক্তির রূপান্তরের সম্ভাবনায় বিশ্বাস করে। কারাবাসের উদ্দেশ্য কেবল আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া নয়, বরং সংস্কার ও ইতিবাচক পরিবর্তনে সহায়তা করা। তিনি মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদেরকে নবজীবনের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে, আইন মেনে জীবনযাপন করতে এবং সমাজের সৃজনশীল সদস্য হয়ে ওঠার পরামর্শ দেন।
মিশ্র বলেন, তেলেঙ্গানা কারা বিভাগ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থানমুখী কর্মসূচি, কাউন্সেলিং এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে কারাগারগুলোকে সংশোধন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পুনর্বাসনের কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার। তিনি বলেন, অর্থপূর্ণ পুনর্বাসন কারাগারের দুয়ারে এসে শেষ হয়ে যায় না। মুক্তি-পরবর্তী সহায়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। মুক্তিপ্রাপ্ত ৯১ জন বন্দির মধ্যে ৩৮ জনকে তেলেঙ্গানা কারা বিভাগ পরিচালিত বিভিন্ন জ্বালানি বিক্রয় কেন্দ্রে কাজের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ৫৩ জন মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দি স্বনির্ভর, কৃষি, পারিবারিক ব্যবসা এবং অন্যান্য স্বাধীন পেশা গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কারা উন্নয়ন তহবিলের মাধ্যমে চার জন মহিলা বন্দিকে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে কর্মসংস্থানের উদ্দেশে।