ওঙ্কার ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ফের অস্বস্তিতে পাকিস্তান। ২০২৫ সালে সন্ত্রাসবাদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে এই দেশেই। এমনই তথ্য উঠে এসেছে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার রিপোর্টে। ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস বা আইইপি প্রকাশ করেছে ‘গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স, ২০২৬’। জঙ্গি হামলা, প্রাণহানি, পণবন্দি এবং অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে এই রিপোর্ট।রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে মোট ১,০৪৫টি সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১,১৩৯ জন। একই সময়ে ৬৫৫ জনকে পণবন্দি করা হয়েছে।
আইইপির পরিসংখ্যান আরও বলছে, পাকিস্তানে ২০১৩ সালের পর থেকেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ দ্রুত বেড়েছে। পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার প্রায় ৬৭ শতাংশই ঘটেছে খাইবার পাখতুনখোয়ায়। দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয়তা রয়েছে। এই পরিস্থিতির সঙ্গে তেহরিক-এ তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপির সক্রিয়তার সম্পর্কের কথাও উঠে এসেছে রিপোর্টে। গত দেড় দশকে পাকিস্তানে সক্রিয় বিদ্রোহী সংগঠনগুলির মধ্যে টিটিপি অন্যতম।
আইইপির রিপোর্টে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান ফের ক্ষমতায় আসার পর খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসবাদী হামলার সংখ্যা বেড়েছে বলে রিপোর্টে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই রিপোর্ট প্রকাশের পর পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানিও সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। আমেরিকায় পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত রিপোর্টে প্রকাশিত তালিকার একটি ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানেই পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করেন হাক্কানি। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, নিজের ঘরের পিছনে সাপ পুষলে এক সময় সেই সাপই বাড়ির লোকজনকে কামড়াতে পারে। হাক্কানি আরও বলেন, পাঁচ দশক আগে পাকিস্তান কট্টরপন্থী জেহাদিদের অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। এখন সেই সন্ত্রাসবাদেরই সবচেয়ে বড় শিকার পাকিস্তান। তাঁর প্রশ্ন, এই পরিস্থিতি থেকে কেউ শিক্ষা নিতে চায় কি না।
পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের নীতির পরিণতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ভারতও দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে মদত দেওয়ার অভিযোগ করে এসেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত বারবার সতর্ক করেছে, সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দিলে এক সময় তার প্রভাব নিজের দেশেও পড়তে পারে। এ বার আইইপির রিপোর্টে পাকিস্তানের সন্ত্রাস পরিস্থিতির যে ছবি উঠে এসেছে, তাতে সেই বিতর্কই ফের সামনে এসেছে। ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত পাকিস্তান নিজেই এখন সন্ত্রাসের ভয়াবহ প্রভাবের মুখে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে।