৯/১১-এর মতো ভয়াবহ হামলা হতে পারত, ঝরে যেত শয়ে শয়ে প্রাণ। কিন্তু একা রুখে দিলেন এক ভারতীয়। ফ্লাইদুবাই বিমানের ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতা এখন দেশের মুখে মুখে। সেই বীর পাইলটকেই শুক্রবার বিদেশের হাসপাতালে ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
ফোনের এপারে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা ৩৯ বছরের যুবক, চোখে জল, মুখে হনুমান চালিশা। ওপারে প্রধানমন্ত্রী। কথোপকথনের শুরুতেই মোদীর বার্তা, “আপনার অসীম সাহসে দেশ গর্বিত। যখন দরকার হবে, একটা ফোন করবেন।”
আবেগ ধরে রাখতে পারেননি স্মিত। কান্নাভেজা গলায় বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারব। আপনি আমার সবচেয়ে বড় আদর্শ। আমি অত্যন্ত গর্বিত যে আপনি ফোন করে উৎসাহ দিচ্ছেন।” মোদী তখন বলেন, “আমার কাছে আপনি আবেগপ্রবণ হবেন না তো কোথায় হবেন!”
প্রধানমন্ত্রীকে নিজের লড়াইয়ের কথা শোনান স্মিত। বলেন, “আমি অনেক আঘাত পেয়েছিলাম, পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু নিজেকে বলেছিলাম, উঠে দাঁড়াতেই হবে। আমি আমার জীবনের জন্য লড়ছিলাম। বুঝেছিলাম না উঠলে মারা যাব।”
১৭ বছরের উড়ানের অভিজ্ঞতা, তার মধ্যে ১১ বছর ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার জোরেই শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানো। স্মিত বলেন, “চোখ বন্ধ থাকলেও বুঝতে পারি বিমানের ভেতরে কী ঘটছে। জানতাম শেষবারের মতো চেষ্টা করতেই হবে। সর্বশক্তি দিয়ে ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করছিলাম। দরজা খুলতেই অন্যরা ভেতরে আসে।” তবে কৃতিত্ব একা নিতে নারাজ তিনি, বলেন বিমান হাইজ্যাক রোখায় সবার সমান ভূমিকা ছিল।
কথোপকথনে উঠে আসে ভক্তির প্রসঙ্গও। স্মিত জানান, বিপদে পড়লেই তিনি হনুমান চালিশা পাঠ করেন, সেদিনও তাই করছিলেন। মোদী জানান, তিনি স্মিতের মা গীতার সঙ্গেও কথা বলেছেন। মা তাঁকে ভগবদ্গীতার মূল্যবোধ দিয়ে বড় করেছেন। মোদীর গলায় তখন গর্ব, “দেশ বলতে পারে, ভারতীয়রা অন্যের প্রাণ কাড়ে না, বরং প্রাণ বাঁচাতে নিজের জীবন বিপন্ন করতেও প্রস্তুত থাকে।” বর্তমানে বিদেশে চিকিৎসাধীন স্মিত। প্রধানমন্ত্রী তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।